মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত রিগানের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ২ লাখ টাকা জরিমানা
মেহেরপুর প্রতিনিধি:

মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারি গ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় রিগান হোসেন (৩৫) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা জরিমানার রায় দিয়েছেন বিচারিক ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল। আদালত জরিমানার টাকা অনাদায়েঅেভিযুক্তকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে এ রায় দেন মেহেরপুর ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের’ বিচারক মোঃ তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। লম্পট রিগান হোসেন মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরোঘরিয়া উত্তর পাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১০ মার্চ মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারি গ্রামের রহিদুল ইসলামের ১০ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে পার্শ্ববর্তী তেরঘরিয়া গ্রামে তার নানার বাড়ি বেড়াতে যায়। ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১১ টার দিকে চকলেট দেওয়ার নাম করে শিশুটিকে লম্পট রিগান তার দোকানের ভেতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
তার পাশবিক নির্যাতনে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে, ধর্ষক রিগান শিশুটিকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রিগানের মা সখিনা খাতুন শিশুটিকে তার নানীর বাড়িতে রেখে আসে। পরে নানির বাড়ির লোকজন শিশুটিকে মেহেরপুর ২৫০ অধ্যায় বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়।সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।পরে শিশুটি জ্ঞান ফিরলে তার সাথে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন।
আরো জানা যায়, ২০২৩ সালে ১৬ মার্চ শিশুটির চাচা শাহাবুদ্দিন মেহেরপুর সদর থানায় বাদি হয়ে ৯(১)২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩ ধর্ষণরে ঘটনায় অপনরাধী ওই যুবকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল আলিম প্রাথমিক তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এদিকে অভিযুক্ত রিগার হোসেন নিজে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ১৭ জনের স্বাক্ষর প্রমাণ শেষে শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইবুনাল আদালত রিগান হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানার রায় ঘোষাণা করেন। তবে জরিমানার অর্থ অনাদায় আসামীকে আরো এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিডিটর মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন, আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট পল্লব ভট্টাচার্য ও ইব্রাহিম শাহীন কৌশলী মামলার শুনানিতে অংশ নিয়েছেন।
আ. দৈ./কাশেম




















