হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার-২
নিজস্ব প্রতিবেদক :

স্বল্প সময়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ভুয়া কোম্পানির নামে অভিনব কৌশলে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট। গ্রেফতারকৃতরা হলেন -মো. মাসুম রানা (৩৮) ও মো. শামীম আক্তার (৩৬)।
দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মাসুম রানাকে গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ও শামীম আক্তারকে রাতে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদ্বয় উক্ত অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ-তে কর্মরত সালেহ আহাম্মদ খান হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের সাথে পরিচিত হন। প্রতারকরা “ড্রিমপায়ারিং এমসিএস লি.” নামীয় একটি ভুয়া কোম্পানির পরিচয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করে এবং হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভুয়া চুক্তিপত্র পাঠায়।
পরবর্তীতে বাদী সরল বিশ্বাসে নিজের সঞ্চয়, অফিসের অর্থ এবং স্ত্রীর স্বর্ণ বন্ধক রেখে নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে মোট ৮৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা আসামিদের নিকট প্রদান করেন এবং প্রতারকরা মাসিক উচ্চ লভ্যাংশ প্রদানের আশ্বাস দিয়ে উক্ত অর্থ আত্মসাৎ করে।
অর্থ আত্মসাতের পর সালেহ আহমেদ আসামিদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানায় যেতে বলে বিভ্রান্ত করে। একপর্যায়ে ঢাকার সেগুনবাগিচায় তাদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন যে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং কোম্পানিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। পরবর্তীতে তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
মামলার প্রেক্ষিতে বিষয়টি সিআইডিকে অবহিত হওয়ার পর সিআইডি, সিপিসি’র সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস ইউনিট তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত গ্রেফতারকৃতদের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আ. দৈ./কাশেম/ ইমু




















