বিএনপি অশান্ত করছে ভোটের পরিবেশ, জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনের প্রচারণায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সরকারদলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া শহর জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর গত ১২ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরেছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বিরোধী পক্ষ ধানের শীষ মার্কার লোকজন নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করে তুলছে।
তিনি বলেন, শাখারিয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতৃবৃন্দ মহিলা কর্মী মাজেদা বেগমের বাড়িতে দুইবার গিয়ে হুমকি দিয়ে হাত-পা ভেঙে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। ফাঁপোড় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কামাল হোসেন, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সেক্রেটারি মিজানুর করিম মাসুদ আমার দলীয় কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাতে নিষেধ করছে এবং খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছে।
এ ছাড়া ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আমার উঠান বৈঠক করার সংবাদ পেয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা হাতকাটা শম্ভুর নেতৃত্বে সমাবেশ পণ্ড করতে হুমকিধমকি প্রদান করে এবং সমাবেশের পাশেই মাইক বাজিয়ে সমাবেশ পণ্ড করে। এরুলিয়া এলাকায় আমাদের মহিলা কর্মী নাজনিন আক্তারকে বিএনপি দলীয় সন্ত্রাসী পোটল তার মহিলা সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা মারধর করে, ফাঁপোড় এলাকায় আমার কর্মী নেছার উদ্দিনকে বিএনপি দলীয় সন্ত্রাসীরা হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
এ ছাড়া সমগ্র আসনে আমার ব্যানার, ফেস্টুন খুলে ফেলে ধানের শীষ মার্কার ব্যানার টাঙ্গিয়েছে। বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও তার দলীয় নেতাকর্মী কর্তৃক প্রতিনিয়ত নানা ধরনের আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে আসছে। তার বিরুদ্ধে আমি এ পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার এবং অনুসন্ধান ও বিচারিক জজ সাহেবের কাছে মোট ১৫টি অভিযোগ দাখিল করেছি। প্রত্যেক অভিযোগের সঙ্গে সচিত্র ভিডিও আছে।
কিন্তু প্রশাসন এখন পর্যন্ত একটি অভিযোগের বিরুদ্ধেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমার পূর্বের আশঙ্কাই প্রতিফলন হতে যাচ্ছে- তা হলো আবার বগুড়ায় মাগুরা মার্কা নির্বাচন করা।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের এই প্রার্থী আরও বলেন, শুনতে পাচ্ছি, বিএনপি দলীয় প্রার্থী পুরো বগুড়া জেলা থেকে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে ভোটের দিন কেন্দ্র দখলে নিয়ে ভোট ডাকাতি করবে। এমতাবস্থায় বগুড়া সদরের নির্বাচন সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে আমার দাবি হলো- আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নির্বাচনের দিন প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো, দলীয় প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ বাতিল এবং নির্বাচনের আগে থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ভোটের দিন সেনাবাহিনীসহ অধিক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নিয়োগ করা। আসন্ন উপ-নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ করতে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, দাঁড়িপাল্লার ভোটারদের ভয়ভীতি এবং হুমকি-ধামকির মাধ্যমে পুরো এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। সরকারের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বগুড়ার উপনির্বাচনে তারা জিততে পারবেনা এটা টের পেয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র করছে।
তারা মাগুরা স্টাইলে বগুড়ার উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতি করতে চায়। প্রশাসনকে বারবার বলার পরেও যেহেতু কোন প্রতিকার হচ্ছে না, সেহেতু ভোট ডাকাতির চেষ্টা হলে শক্ত হাতে তা প্রতিহত করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক আ স ম আব্দুল মালেক, সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হাকিম সরকার, জামায়াত নেতা রফিকুল আলম, আল-আমিন, আব্দুল হালিম বেগ, আব্দুস ছালাম তুহিন, আজগর আলী, ইকবাল হোসেন, শাহীন মিয়া, নুরুল ইসলাম আকন্দ প্রমুখ।
আ.দৈ/আরএস




















