রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মসজিদে আজানের সময় আসে সাপ, শেষ হতেই আবার অদৃশ্য
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৫ পিএম   (ভিজিট : ৯৭)
X

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পালশা থান্দারপাড়ায় অবস্থিত প্রায় ২৭০ বছরের পুরোনো এক গম্বুজবিশিষ্ট একটি মসজিদকে ঘিরে ডালপালা মেলছে নানা রহস্য। স্থানীয়দের দাবি, মুঘল আমলের এই প্রাচীন স্থাপনাটিতে প্রায়ই অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদে আজান শুরু হলেই আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। অবাক করার বিষয় হলো, আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। আবার অনেক সময় গভীর রাতে বা ফজরের আগে শোনা যায় ওজুর পানির শব্দ— যেন একসঙ্গে অনেক মানুষ ওজু করছেন। তবে কাছে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না।

এ ঘটনা বহুবার প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানান মসজিদের সাবেক মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান।স্থানীয়দের কাছে ঘটনাগুলো দীর্ঘদিনের পরিচিত হলেও বাইরের মানুষের কাছে তা বেশ বিস্ময়ের। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এলাকাবাসীর দাবি— এ ঘটনাগুলো তারা বহু বছর ধরেই প্রত্যক্ষ করে আসছেন।

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ছোট্ট এই এক গম্বুজ মসজিদটি মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলী বহন করে আজও দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের পরিক্রমায় আশপাশের পরিবেশ ও বসতবাড়িতে অনেক পরিবর্তন এলেও মসজিদটির প্রাচীন কাঠামো অনেকটাই আগের মতোই রয়েছে।

মসজিদের দীর্ঘদিনের খাদেম আনসার আলী মৃধা কালবেলাকে বলেন, বহু বছর ধরে তিনি মসজিদটির দেখভাল করছেন এবং মাঝেমধ্যেই এমন অদ্ভুত ঘটনার কথা শুনেছেন ও কিছুটা অনুভবও করেছেন।

তিনি বলেন, শুধু সাপের উপস্থিতিই নয়, মাঝে মাঝে গভীর রাতে বা ফজরের আগে মসজিদের ওজুখানার দিক থেকে পানির শব্দ শোনা যায়। মনে হয় যেন কেউ ওজু করছেন। তবে কাছে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না।


এলাকার বাসিন্দা রুহুল কুদ্দুস মাস্টার, ইমরান ও কাবেদ আলী জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা এই মসজিদকে ঘিরে নানা গল্প শুনে আসছেন। কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করেন, আবার কেউ মনে করেন এটি প্রাচীন মসজিদের রহস্যময় পরিবেশেরই অংশ।

স্থানীয়দের মতে, এই মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; বরং এটি এলাকাবাসীর বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। একসময় ছোট্ট এই মসজিদে একসঙ্গে মাত্র সাতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে পাশেই নতুন একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে, তবে পুরোনো মসজিদটি এখনো ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

এলাকার অনেক মানুষের বিশ্বাস, এই মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূরণ হয়। তাই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এখানে আসেন নামাজ আদায় করতে কিংবা প্রাচীন এই স্থাপনাটি এক নজর দেখতে।

সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন মসজিদটি আজও বহন করছে ইতিহাস, বিশ্বাস ও রহস্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, ঐতিহাসিক এই মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কিছুটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রাচীন স্থাপনাটির মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, যথাযথ সংস্কার করা হলে এটি একদিকে যেমন ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে, তেমনি দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

আ.দৈ/আরএস






Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝