অবশেষে হত্যা মামলার পলাতক আসামী রুহুল গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক :

অবশেষে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের একটি টিম গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন হিরাঝিল এলাকা থেকে ধর্ষণ মামলার মূল আসামী এবং ২০১৮ সালের একটি নারী হত্যা মামলার পলাতক আসামী মো. রুহুল মিয়া ওরফে রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, গত ৩ মার্চ পল্লবী এলাকার এক বাসার সামনে থেকে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে অপহরণ করা হয়। সেখানে আসামী রুহুল মিয়া ওরফে রুহুল আমিন অন্য সহযোগী আসামীদের সহায়তায় আটকে রেখে প্রায় ১২ দিন তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে বলে ভিকটিম জানায়। প্রায় ১২ দিন নির্যাতনের পর, ভিকটিম কৌশলে আসামী রুহুল মিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার মাতার মোবাইল নম্বরে কল করে এবং নিজের অবস্থান ও বিপদগ্রাস্ত অবস্থার কথা জানায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের পিতা-মাতা গত ১৫ মার্চ অজ্ঞাত স্থান থেকে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এ ঘটনার পর ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে পল্লবী থানায় এজাহার দাখিল করলে পল্লবী থানায় মামলা হয়।
মামলাটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে সিআইডি, ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম বিভাগে তদন্তের জন্য হস্তান্তর করা হয়। তদন্তভার গ্রহণের পর, সিআইডি মাঠতদন্ত ও প্রযুক্তি-নির্ভর গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ১নং আসামী রুহুল মিয়া ওরফে রুহুল আমিনকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন হিরাঝিল এলাকায় আত্মগোপনে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়। এরপর, সিআইডি ঢাকা মেট্রো-পশ্চিমের একটি বিশেষ টিম ১২ অক্টোবর রাতে সফল অভিযান পরিচালনা করে আসামীকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুহুল মিয়া ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করে এবং তদন্তের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত রুহুল মিয়া সিলেট জেলার বালাগঞ্জ থানাধীন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী। ওই হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর থেকেই সে পলাতক ছিল এবং ঢাকায় আত্মগোপনে থেকে নতুন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।
বর্তমানে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং অন্যান্য সহযোগী আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রেখেছে সিআইডি।
আ. দৈ./কাশেম ইমু




















