বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
জাপানের সঙ্গে ইপিএ দ্রুত কার্যকর হলে বাড়বে রপ্তানি ও বিনিয়োগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫০ পিএম   (ভিজিট : ০)
X

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করা গেলে দেশটির বড় বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে। এ জন্য চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করার পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকায় জাপান দূতাবাস।

বাসস’র প্রশ্নের লিখিত জবাবে দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ বলেছে, চুক্তির সুফল পেতে ব্যবসায়ীদের এর বিভিন্ন শর্ত সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকতে হবে। বিশেষ করে শুল্কসুবিধা এবং পণ্যের উৎপত্তির নিয়ম সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের সচেতন করা জরুরি। তাহলেই চুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাস্তব অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে স্বাক্ষরিত ইপিএ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি হয়েছে।

জাপান দূতাবাস জানায়, চুক্তিটি কার্যকর হলে নির্ধারিত শুল্ককাঠামোর আওতায় অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সেবা, বিনিয়োগ, শুল্কপ্রক্রিয়া, ই-কমার্স ও মেধাস্বত্বের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকায় ব্যবসা পরিচালনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আরও বেশি নিশ্চয়তা তৈরি হবে।

দূতাবাস বলেছে, ‘তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করা এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা।’ এ জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি চুক্তির সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দূতাবাস।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) মধ্যে চুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে জাপান দূতাবাস। তাদের মতে, এ বিষয়ে প্রচার ও যোগাযোগ কার্যক্রম জোরদার করা গেলে আরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চুক্তির আওতায় আসতে পারবে এবং নতুন বাণিজ্য কাঠামোর সুবিধা নিতে পারবে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির মধ্যে বাংলাদেশের জন্য এ চুক্তি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এর মাধ্যমে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের পরিকল্পনায় ব্যবসায়ীরা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য কাঠামো পাবেন।

দূতাবাসের মতে, চুক্তির সুফল হিসেবে বাণিজ্য বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দুই দেশের সরকার এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ প্রয়োজন। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত করতে দুই দেশ যৌথ কমিটিসহ বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগুলো কাজে লাগাতে পারে।

পোশাকের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের সুযোগ

জাপানের বাজারে তৈরি পোশাকের (আরএমজি) বাইরে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে দূতাবাস। এ ক্ষেত্রে চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য, ওষুধ এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবাকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে তারা। এ ছাড়া বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার জন্য গাড়ির যন্ত্রাংশসহ শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ উৎপাদনের মতো পশ্চাৎমুখী শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ অনুসন্ধানের পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।

তবে জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে দেশটির বাজারের চাহিদা ও মানদণ্ড সম্পর্কে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের আরও ভালো ধারণা থাকতে হবে। পণ্যের মান ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা, নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ, শ্রম ও পণ্যের মানসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলাও জরুরি। বিশেষ করে ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে জাপানের পণ্য অনুমোদন ও উৎপাদনের মানসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উৎপাদনশিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভোগ্যপণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, সরবরাহ ও পরিবহনসেবা এবং জ্বালানির কথা উল্লেখ করেছে দূতাবাস। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (বিএসইজেড) জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ আকর্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জাপানি কোম্পানিগুলোর সংযোগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

দূতাবাস বলেছে, অবকাঠামোর উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে বিনিয়োগে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও উৎসাহিত হবে। এতে নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগও বাড়বে। দূতাবাসের মতে, ইপিএ কার্যকর করা, শিল্প খাতে সহযোগিতা জোরদার এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করা সম্ভব। সুত্র বাসস



আ.দৈ/এসআর





Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

● About Us    ● Advertisement    ● Terms & Conditions    ● Privacy Policy    ● Copyright Policy    ● Circulation    ● Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝