সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬,
৩ কার্তিক ১৪৩৩
ই-পেপার

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
নতুন সাজে ওসমানী উদ্যান, সবুজে ফিরছে নগরজীবনের স্বস্তি
২৩ একরের ঐতিহাসিক উদ্যানে জলাশয়, সবুজ দ্বীপ, হাঁটার পথ ও আধুনিক নাগরিক সুবিধা; জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ইতিহাস ও প্রকৃতির মেলবন্ধন
শাহীন রহমান
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০১ পিএম   (ভিজিট : ০)
X

ইট-পাথরের নগরে একটু সবুজ, একটু খোলা আকাশ, জলাশয়ের পাশে কিছুটা নিরিবিলি সময়—ঢাকার মানুষের কাছে এমন পরিসর এখন বড়ই কাঙ্ক্ষিত। যানজট, শব্দদূষণ আর ঘনবসতিপূর্ণ নগরজীবনের ক্লান্তির মধ্যে একটি পার্ক শুধু অবসর কাটানোর জায়গা নয়; হয়ে উঠতে পারে হাঁটাচলা, শরীরচর্চা, নির্মল বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়া এবং নাগরিক জীবনে স্বস্তি খুঁজে পাওয়ার আশ্রয়। রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান এবার সেই সম্ভাবনা নিয়েই ফিরেছে নতুন সাজে।

২৩ একর আয়তনের ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন শেষে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। ফলে উদ্যানটির নতুন যাত্রায় যুক্ত হয়েছে দুটি ভিন্ন অথচ তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রা—নগরবাসীর জন্য সবুজ ও অবকাশের পরিসর তৈরি এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে স্মরণে রাখার উদ্যোগ।

আধুনিকায়নের ফলে উদ্যানটিতে যুক্ত হয়েছে নতুন জলাশয়, সবুজ দ্বীপ, দীর্ঘ হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণ-শৌচাগার, পার্কিং সুবিধা ও জলাশয়ের ঘাট। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এসব অবকাঠামোকে ঘিরে প্রত্যাশা, ওসমানী উদ্যান শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের প্রকল্প হয়ে থাকবে না; বরং রাজধানীর মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যবহারযোগ্য উন্মুক্ত পরিসরে পরিণত হবে।

জলাশয় ও সবুজে নতুন রূপ

উদ্যানটির আধুনিকায়নে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে পাঁচটি নতুন জলাশয়। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে এবং গড়ে তোলা হয়েছে সবুজ দ্বীপ। নগরায়ণের চাপে যখন রাজধানীর উন্মুক্ত জায়গা ও সবুজের পরিসর সংকুচিত হচ্ছে, তখন একটি ঐতিহাসিক উদ্যানকে নতুন করে সাজানোর ক্ষেত্রে জলাশয় ও গাছপালাকে গুরুত্ব দেওয়া বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

জলাশয় ও গাছপালা কোনো উদ্যানের সৌন্দর্য বাড়ানোর উপাদানমাত্র নয়। সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এগুলো নগরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখতে পারে। জলাশয় স্থানীয় পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে, আর গাছ ছায়া ও সবুজের আবহ তৈরি করে। তবে এসব সুবিধা দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে জলাশয়ের পানি পরিষ্কার রাখা, গাছের পরিচর্যা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।

ওসমানী উদ্যানে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ। নিয়মিত হাঁটতে চান এমন মানুষ, প্রবীণ নাগরিক কিংবা শরীরচর্চায় আগ্রহীদের জন্য এই পথ ব্যবহারযোগ্য একটি পরিসর তৈরি করতে পারে। রয়েছে ব্যায়ামাগারও। পাশাপাশি প্যাগোডা, গণ-শৌচাগার, পার্কিং সুবিধা ও জলাশয়ের ঘাট যুক্ত হওয়ায় উদ্যানটির ব্যবহারিক সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ব্যবস্থা। নগরজীবনে পানির সঠিক ব্যবহার এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে পানি সংরক্ষণব্যবস্থার নিয়মিত পরিচর্যা, ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।

উদ্যানটি দুই স্তরে সাজানো হয়েছে। সড়ক থেকে প্রায় দুই মিটার উঁচুতে রাখা হয়েছে দ্রুত চলাচলের পথ। এর ফলে উদ্যানের বিভিন্ন অংশে চলাচলের জন্য আলাদা পরিসর তৈরি হয়েছে। তবে এ ধরনের পথের সুবিধা সবার কাছে পৌঁছে দিতে পথনির্দেশনা, নিরাপত্তা, প্রবেশগম্যতা এবং প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ ব্যক্তিদের চলাচলের উপযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

উন্নয়ন মানে প্রকৃতিকে বাঁচিয়েই এগোনো

ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উন্নয়নকাজের সঙ্গে প্রকৃতি সংরক্ষণের সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মানুষের প্রয়োজন ও দেশের উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে, তবে সে ক্ষেত্রে প্রকৃতির ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে হবে। বিদ্যমান গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য নগর উন্নয়নের একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে। উন্নয়ন কি কেবল নতুন স্থাপনা নির্মাণ, নাকি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাও এর অংশ? ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকায় পার্ক, জলাশয় ও খোলা জায়গার প্রয়োজন শুধু বিনোদনের জন্য নয়; এগুলো নগরবাসীর সুস্থতা ও পরিবেশগত ভারসাম্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়নের পর তাই প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে নির্মিত অবকাঠামো কতটা সুন্দর, কার্যকর ও টেকসইভাবে সংরক্ষণ করা যায় তার ওপর। নতুন জলাশয়ে পানি জমে থাকা, গাছের বেড়ে ওঠা, হাঁটার পথের পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন। উদ্বোধনের দিনের সৌন্দর্যকে প্রতিদিনের অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করতে পারলেই এই উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।

স্মৃতিস্তম্ভে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা

ওসমানী উদ্যানের নতুন রূপের সঙ্গে একই দিনে উদ্বোধন করা হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ৮৩৪ জনের নাম লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে। সামনে রয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট উঁচু এবং ভেতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে সাত ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। এসব ভাস্কর্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান।

স্মৃতিস্তম্ভটির নকশা ও উপস্থাপনায় ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়কে পাশাপাশি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এর ফলে দর্শনার্থীরা শুধু একটি স্থাপনা দেখার সুযোগ পাবেন না, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার ধারাবাহিকতা সম্পর্কেও ধারণা পেতে পারেন। বিশেষত নতুন প্রজন্মের জন্য এমন স্মারক ইতিহাস জানার এবং অতীতের আত্মত্যাগ নিয়ে ভাবার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে।

তবে স্মৃতিস্তম্ভের তাৎপর্য কেবল এর উচ্চতা, স্থাপত্য কিংবা খোদাই করা নামের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারগুলোর প্রতি সম্মান, আন্দোলনের ইতিহাসের যথাযথ উপস্থাপন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার মূল্যবোধকে ধারণ করাও এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

উদ্বোধনে শহীদ পরিবারের সদস্যরা

সোমবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনের পর স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করে বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং উদ্যানসংলগ্ন গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল আলম বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক বিরোধিতার ধরন নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করা হলে তা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে। বিরোধী দলকে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে এবং অন্য দলগুলো বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছে। সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মূল কাজ হওয়া উচিত দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণ নিয়ে আলোচনা, যুক্তিতর্ক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ। সরকারি দলই শুধু জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে কিংবা বিরোধী দলই কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে—এমন ধারণা থেকেও বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, চিকিৎসাসেবা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলগুলোর নিজস্ব অবস্থান থাকতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যই জনগণ তাঁদের সংসদে পাঠিয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করার অর্থ শুধু স্মৃতিচারণ নয়; বরং আত্মত্যাগকারীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করা। আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সহায়তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকাগুলোতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে আরও মনোযোগ প্রয়োজন। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।

পরিবেশ দূষণ ও অপরিচ্ছন্নতা মানুষের রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়াতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। ওসমানী উদ্যান ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভকে জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নাগরিকদের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকার একটি ঐতিহাসিক উদ্যানকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করে তোলা নিঃসন্দেহে নগরজীবনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত পরিচর্যা, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ। জলাশয় যেন বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত না হয়, গাছপালা যেন অবহেলায় নষ্ট না হয়, হাঁটার পথ যেন দখল ও অপরিচ্ছন্নতার শিকার না হয়—এসব নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

একই সঙ্গে দর্শনার্থীদেরও উদ্যানের পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হতে হবে। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা, জলাশয় পরিষ্কার রাখা, গাছপালার ক্ষতি না করা এবং স্মৃতিস্তম্ভের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা নাগরিক দায়িত্বের অংশ।

সবুজ, জলাশয় ও ইতিহাসের স্মারককে পাশাপাশি ধারণ করে নতুন সাজে যাত্রা শুরু করল ওসমানী উদ্যান। এর একদিকে নগরবাসীর হাঁটাচলা ও অবসরের পরিসর, অন্যদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি এবং বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস। এখন দেখার বিষয়, উদ্বোধনের দিনের আয়োজন পেরিয়ে এই উদ্যান কতটা পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, সবুজ ও সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য রাখা যায়। কারণ, একটি উদ্যানের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু তার নকশায় নয়—প্রতিদিনের রক্ষণাবেক্ষণ, মানুষের ব্যবহার এবং প্রকৃতির সঙ্গে তার সহাবস্থানেই।


আ.দৈ/এসআর





Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

● About Us    ● Advertisement    ● Terms & Conditions    ● Privacy Policy    ● Copyright Policy    ● Circulation    ● Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝