কক্সবাজারে ৩০ শতক জমির নামজারিতে ঘুষ নেয় ৯ শতক, দুদকের মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ভূমি অফিসে জমির নামজারি সংক্রান্ত দপ্তরে কর্মকর্তাদের মোটা অংকের ঘুষ কেলেঙ্কারি, ক্ষমতার অপব্যহারের শিকার নিরীহ মানুষ। তার প্রমাণ মিলছে পর্যটন নগরী বলে খ্যাত কক্সবাজারে।
কক্সবাজার সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ৩০ শতক জমির নামজারিতে ঘুষ হিসেবে ৯ শতক জমি লিখে নেওয়ার সুনিদিষ্ট অভিযোগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব পঙ্কজ বড়ুয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো কমিশনের এক সভায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর যেকোন সময় মামলাটি রেকর্ড করা হতে পারে।
দুদক কর্মকর্তা জানায়, আদালতের ডিক্রির ভিত্তিতে ৩০ শতক জমির নামজারি করতে গিয়ে ঘুষের দাবির মুখে জমির মালিক বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের স্বজনদের নামে ওই ৯ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে। দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযুক্ত অন্য চারজন হলেন- কক্সবাজার সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নূর, তার শ্যালক ইফতেখারুল হাসান, সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেনের শ্যালক মফিজুর রহমান ও পঙ্কজ বড়ুয়ার দাদি শাশুড়ি দীপিকা বড়ুয়া।
এদিকে দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১/ ১৬২/ ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। দুদক কর্মকর্তা জানান, ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের মাধ্যমে জমির মালিক তিনজনের স্বজনদের নামে ৩ শতক করে মোট ৯ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানান,বিজ্ঞ আদালত হতে ডিক্রি মূলে কক্সবাজার মৌজার কক্সবাজর সদরে ৩০ শতক জমির নামজারী খতিয়ান করার জন্য রেকর্ডপত্র জমা দিলে ভূমির মালিকের কাছে ঘুষ হিসেবে ৯ শতক জমি দাবী করা হয়। পরবর্তীতে ভূমি মালিক বাধ্য হয়ে ২০১৭ সালে ৩০ এপ্রিল অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল নং-১৯১২ মূলে কক্সবাজার সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেনের পক্ষে তার শ্যালক মফিজুর রহমানের নামে ০৩ শতক, কক্সবাজার সদর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ছৈয়দ নূরের পক্ষে তার শ্যালক ইফতেখারুল হাসানের নামে ০৩ শতক এবং কক্সবাজার সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) পঙ্কজ বড়ুয়ার পক্ষে তার দাদী শাশুড়ী দীপিকা বড়ুয়ার নামে ০৩ শতক করে অর্থাৎ ০৯ শতাংশ ভূমি রেজিস্ট্রি করে দেন।
উক্ত অপরাধ অনুসন্ধানকালে প্রমাণিত হওয়ায় কমিশন থেকে (১) সৈয়দ নূর, সাবেক ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা, সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, কক্সবাজার, (২) পঙ্কজ বড়ুয়া, সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা ভূমি অফিস, কক্সবাজার সদর, কক্সবাজার, বর্তমানে উপসচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, ঢাকা, (৩) মফিজুর রহমান (ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেন এর শ্যালক), (৪) ইফতেখারুল হাসান, পিতা-ইব্রাহিম খলিল, সাং-খলিলের বাড়ী, ঝিলংজা, ডাকঘর-ঝিলংজা, থানা-কক্সবাজার সদর, কক্সবাজার (ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নূর এর শ্যালক) এবং (৫) দীপিকা বড়ুয়া (সহকারী কমিশনার পঙ্কজ বড়ুয়া এর দাদী শ্বাশুড়ি) গণের বিরুদ্ধে দন্ডবিধি'র একটি মামলার অনুমোদন দেয়া হয়। সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আবুল হোসেন,গত ২০২৪ সালে ০১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করায় তাকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়।
আ. দৈ./একে




















