আ’লীগের ডজন খানিক সাবেক এমপি. মেয়র ও নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব বিস্তার ওজালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও তৎকালীন অধিকাংশ সংসদ সদস্য, মেয়র এবং সাংবাদিক নেতা, পত্রিকার সম্পদকরা বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দীর্ঘ অনুসন্ধানে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি, মন্ত্রী, নেতাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনিদিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের শুরু হয়েছে।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের পক্ষ থেকে ডজন খানিক সাবেক এমপি,মন্ত্রী, পৌসভার মেয়র,নেতা ও সাংবাদিককের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহম্মেদ।
দুদকের অনুমোদিত মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন; কুষ্ঠিায়ার সাবেক এমপি সেলিম আলতাফ জর্জের বিরুদ্ধে ৬৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৮ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ১ কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় একটি মামলা দায়েরের অনুমোদন হয়েছে।
কুষ্টিয়ার সাবেক এমপি আবদুর রউফের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৬০৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক আইনের ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের এবং তার স্ত্রী জান্নাতুন নাহারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯, হাজার ২৯২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরো একটি মামলার অনুমোদন।
কুষ্টিয়ার সাবেক এমপি মোঃ রেজাউল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯২ হাজার ৫৩৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনে একটি মামলরে অনুমোদন এবং তার ছোট ভাই দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরীর ৩৪ লাখ ১৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনর বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জ-৩এর সাবেক এমপি মোঃ আবু জাহিরের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হার ৬২৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ৯ কোটি ৩২ লাখ ৭১ হাজার ৫৫৯টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, এছাড়া ০৪টি ব্যাংক হিসাবে ২২ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৭৫৬ টাকা বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের সুনিদিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। আর এই অপরাধে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) এবং ২৭(১) ধারায় এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় একটি মামলার অনুমোদন প্রদান করা হয়।
ফেনী-৩ এর সাবেক এমপি হাজী রহম উল্লাহর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫২১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনেরঅেভিযোগে দুদক ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় একটি মামলার অনুমোদন প্রদান করা হয়।
লক্ষীপুর-২ এর সাবেক এমপি নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের বিরুদ্ধে ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ১টি মামলা এবং তার স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াছমিন লুবনার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮২ লাখা ৫১ হাজার ৫৮৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনে তাকে সহয়তাকারী হিসেবে নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নসহ দুইজনের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় পৃথক আরেকটি মামলার অনুমোদন প্রদান করা হয়।
নোয়াখালী জেলার বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলা, তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুলের (গৃহিণী) বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি এবং আবদুল কাদের মির্জার ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের (রড সিমেন্টের ব্যবসা) বিরুদ্ধে ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের ৩ টি পৃথক মামলার অনুমোদন প্রদান করা হয়।
যশোর জেলার যশোর সদর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো: জহিরুল ইসলাম চাকলাদারের বিরুদ্ধে ২৪ লাখ ৫৮ হাজার ৪৫ হাজার ২২১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ৪৫৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক ২টি মামলার অনুমোদন প্রদান করা হয়।
খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ২০০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ১২০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অেভিযোগে একটি মামলার অনুমোদন করা হয়েছে। একই সাথে তার স্ত্রী মিসেস জাকিয়া মাহাবুবের বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব মামলা দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যেকোন সময় দায়ের করতেন পারেন।
আ. দৈ./একে




















