লংমার্চ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, গাজীপুর জিএমপি কর্মকর্তা প্রত্যাহার
রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর

বিরোধী দলের লংমার্চের বিবরণ ও দাবিদাওয়া সংবলিত পোস্ট দেওয়ায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনারের স্টাফ অফিসার খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তর ও জিএমপি হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে একটি লংমার্চ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ওই দিন সকাল ১০টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকায় একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা হয়। উক্ত পথসভায় বিরোধী দলের নেতা তথা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের কেন্দ্রীয় শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পক্ষ থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ও সভার আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পথসভাটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে লংমার্চের গতিপথ, জনসমাগম (প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের উপস্থিতি) এবং জোটের বিভিন্ন দাবিদাওয়া উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়।
সরকারি বা প্রশাসনিক কোনো অফিশিয়াল পেজ থেকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির বিবরণ ও জনসমাগমের তথ্য প্রচার করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ নিয়ে গুঞ্জন ও অসন্তোষ দেখা দেয়। বিতর্কের মুখে প্রথমে পোস্টটি সংশোধন করা হলেও পরবর্তীতে তা সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে জিএমপি কর্তৃপক্ষ। ফেসবুক পেজে বিনা অনুমতিতে এই পোস্ট আপলোড করার দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. জাহিদ হোসেন ভূঞা সংবাদমাধ্যমকে জানান, "ভারপ্রাপ্ত স্টাফ অফিসারকে ফেসবুক পোস্টের কারণে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়াটাই একমাত্র কারণ কি না, সে বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত বলা যাবে।"
এ বিষয়ে জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "পোস্টটি কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ অজান্তে ও অনুমোদনহীনভাবে আপলোড করা হয়েছিল। যদিও তিনি (খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ) আমাদের পেজের একজন অ্যাডমিন, তবুও এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় প্রকাশ করার আগে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। আমাদের নির্দিষ্ট মিডিয়া সেল ও উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) এবং কমিশনারের কার্যালয় রয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।"
আ.দৈ/আরএস




















