সাভারের ইয়ারপুর ইউপি প্রশাসকের বিরুদ্ধে প্রকশ্যে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ
ডেস্ক নিউজ

রাজধানীর উপকণ্ঠে সাভার উপজেলার ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক সেলিম রেজার বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রকাশ্যে ঘুসের টাকা গুনে পকেটে নিচ্ছেন। এমন একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত সেলিম রেজা উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজের মূল কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের পদ ব্যবহার করে তিনি ঘুস ও অনিয়মের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এতে ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও অনিয়ম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় একমাস আগে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সেলিম রেজা ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। এর আগে তিনি একই উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ছিলেন। সেখানেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বনগাঁও ইউনিয়নে শিল্পকারখানা কম থাকায় সেখানে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধার সুযোগ সীমিত ছিল। সে কারণে শিল্পকারখানা সমৃদ্ধ ইয়ারপুর ইউনিয়নে প্রশাসকের দায়িত্ব পেতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে নিয়োগ নেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এই পদকে কেন্দ্র করে তিনি অবৈধ অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সেবামূলক কাজের চেয়ে নানা উপায়ে অর্থ আদায়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সেলিম রেজা। সম্প্রতি তার অফিসে বসে ঘুসের টাকা গণনার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, প্রধান কার্যালয় ও নির্ধারিত কর্মস্থল সাভার উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে নিয়মিত অফিস করার কথা থাকলেও ঘুস ও দুর্নীতির নগদ টাকার লোভে তিনি সেখানে ঠিকমতো সময় দেন না। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকে সময় না দিলেও সন্ধ্যায় নিয়ম করে প্রায় ব্যাংকে পৌঁছে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। তার এমন কর্মকাণ্ডে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, এক প্রভাবশালী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করেই তিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পান। একই সঙ্গে প্রভাবশালী মহলকে নিয়মিত মাসোহারা দেওয়ার কারণেই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো প্রতিকার হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগে বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক থাকাকালেও সেলিম রেজার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বর্তমানে ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন সেলিম রেজা। এতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া অ্যাসেট নির্ধারক লস্কর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিল্পকারখানার আয়তন কম দেখিয়ে সরকারি কর কম নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে শত শত কারখানার ক্ষেত্রে সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ সরকারি যে কোনো সেবা নিতে গেলেই সেবাগ্রহীতাকে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা। টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয় সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন কারখানা থেকেও মাসিক মাসোহারা চুক্তি রয়েছে। এ টাকার সিংহভাগ পান প্রশাসক সেলিম রেজা।
ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল প্রশাসক সেলিম রেজা, ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও তার সহযোগী লস্করের কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে সেলিম রেজার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
আ. দৈ./একে




















