ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান
'১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ে ১১ দলীয় জোটের এই সংগ্রাম'
রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পানির সংকট নিরসন, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের প্রথম পথসভা গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পথসভা শেষ হওয়ার পর লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথসভায় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত 'ঢাকা-রংপুর লংমার্চ'-এর অংশ হিসেবে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে এক সুবিশাল পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, "আমাদের এই লংমার্চ কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছানো, শিল্পের চাকা সচল রাখা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দ্রব্যমূল্য ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আমরা রাজপথে নেমেছি।"
তিনি আরও বলেন, "জনগণের ভোটে হা-সূচক রায় প্রদানকারী ৭০ শতাংশ মানুষকে সরকার অবমূল্যায়ন করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।"
জনগণকে সাথে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "জনগণের রায় বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ইনশাল্লাহ, অধিকার আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব।"
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই; তারা দেশের জনগণের সমস্যার সমাধান চান। তিনি মানবতার শাসন, সুশাসন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চান। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার না হলে তারা ‘এক দফা’ আন্দোলনে যাবেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর করা ছাড়া বর্তমান সরকারের সামনে কোনো বিকল্প নেই। তিনি দাবি করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেই সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য বাংলাদেশের মানুষই নির্ধারণ করবে।
গুম-খুনের বিচার প্রসঙ্গে মামুনুল হক শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ও দেশপ্রেমিক ইলিয়াস আলীসহ গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বাংলাদেশের বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে তিনি ভিনদেশী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেন।
এর আগে শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়। ভোগড়া বাইপাসের পর টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার চারমাথা/মাটিডালি ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা করার কর্মসূচি রয়েছে। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে কর্মসূচির সমাপনী সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।
ভোগড়ার পথসভায় গাজীপুর ও আশপাশের এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে মোটরযানের বহর রংপুরের দিকে অগ্রসর হয়।
ভোগড়া বাইপাস মোড়ের পথসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিন ও সঞ্চালনা করেন নগর জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম ফারুক। আরো বক্তব্য দেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, গাজীপুর জেলা জামায়াত আমির ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির খায়রুল হাসান, মোঃ হোসেন আলী, জামায়াত নেতা সাবেক সচিব শাহ আলম বকসী, ডক্টর হাফিজুর রহমান, জেলা জামাতের সেক্রেটারি সফিউদ্দিন, জামায়াত নেতা অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান খান, আজহারুল হক মোল্লা, এনসিপি নেতা এডভোকেট আবু নাসের খান প্রমুখ।
আ.দৈ./একে




















