রাজধানীতে উগ্রবাদী কার্যকলাপে জড়িত সন্দেহে ১২ জন ৩ দিনের রিমান্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে উগ্রবাদী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সন্দেহে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার ১২ জনকে তিন দিন করে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের প্রতিবেদন ও মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর সিটিটিসি সাধারণ ডায়েরির সূত্রে পাওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালানো হয়। এসময় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং জননিরাপত্তায় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার অভিযোগে ১২ জন সন্দেহভাজন যুবককে আটক করা হয়।
গ্রেফতারর ব্যক্তিরা হলেন মো. শিহাব উদ্দিন, মারজুক আহমেদ, সাইফুর রহমান খান, মো. রাশ্মি মিয়া, মো. কামিছুল ইসলাম, মো. সাজ্জাদ হোসেন, আফিফ আহমেদ, মো. মোহাইমিনুল হক, জাওজি চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন, সাব্বির আহমোদ ও জুনায়েদ আহমেদ।
মামলার নথিপত্রে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। পরে তাদের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস পরীক্ষা করে হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপের সন্ধান পাওয়া যায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই গ্রুপের মাধ্যমে আসামিরা উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার করতেন এবং বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি মো. শিহাব উদ্দিন ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে এর আগে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অন্য আসামি সাব্বির আহমেদের বিরুদ্ধেও তেজগাঁও থানায় একটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনলাইন যোগাযোগমাধ্যম—ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম—ব্যবহার করে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টি যাচাই করা দরকার।
এছাড়া সম্ভাব্য সহযোগী ও সহ-অপরাধীদের শনাক্ত করা, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি কথিত উগ্রবাদী কার্যক্রমে অর্থের জোগান বা আর্থিক লেনদেনের উৎস উদঘাটনের জন্যও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আদালত রিমান্ড আবেদনের বিষয়টি এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রত্যেক আসামির তিন দিন করে পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আ. দৈ./একে




















