হাম-ডেঙ্গুর দাপট বাড়ছে: একদিনে ১৫ মৃত্যু, হাসপাতালে রোগীর চাপ
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে একসঙ্গে ভয়াবহ হয়ে উঠছে হাম ও ডেঙ্গুর পরিস্থিতি। একদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে, অন্যদিকে একই সময়ে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেছে সাতজনের। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় এই দুই রোগে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে হাজার হাজার মানুষ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পৃথক তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
একদিনে হামের উপসর্গে আট মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের বুলেটিন অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে দুজন, সিলেটে তিনজন, বরিশালে দুজন এবং খুলনায় একজন মারা গেছেন। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৪১ জন। হাসপাতালমুখী হয়েছেন মোট ১ হাজার ২৩৯ জন। নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৬৭ জন, চট্টগ্রামে ২৭১, সিলেটে ১৯৩, বরিশালে ১০৮, খুলনায় ৯৭, ময়মনসিংহে ৬৩, রাজশাহীতে ২৫ এবং রংপুরে ১৭ জন রয়েছেন।
চলতি বছর শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দিলেও ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে পরিস্থিতি দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকে। ১৫ মার্চ থেকে এ রোগের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে মারা গেছেন ৪২৫ জন। এরপর সিলেটে ১৬৫, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭১, বরিশালে ৫৯, খুলনায় ৪০ এবং রংপুরে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন।
এদিকে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮। পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ২৮২ জনের। স্বাস্থ্য খাতের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে দেশে হামে এত বেশি মৃত্যুর নজির দেখা যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, এর আগে ২০০৫ সালে দেশে ২৫ হাজারের বেশি শিশু হাম আক্রান্ত হয়েছিল—যা তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছিল।
একই সময়ে ডেঙ্গুতেও সাত মৃত্যু
হামের পাশাপাশি ডেঙ্গুর পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৫৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায়—৩৯৪ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৩৪৯, বরিশালে ১৮৬, চট্টগ্রামে ১৭৭, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭৫, ঢাকা দক্ষিণে ১৭৪, রাজশাহীতে ১৫৩, ময়মনসিংহে ৮৩, রংপুরে ৫৩ এবং সিলেটে নয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১৭২
চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৬ হাজার ৯১৬ জন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫২ হাজার ৫৭৯ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ৬৩৮ জন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭২ জনে। তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা গিয়েছিলেন ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪
আ.দৈ/এসআর




















