কণ্ঠরোধের আইন মেনে নেওয়া হবে না’: সাইবার আইন নিয়ে শফিকুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৬-এর সংশোধনীতে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার সুযোগ থাকলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মানুষের ন্যায্য ও যৌক্তিক মতপ্রকাশের অধিকার বাধাগ্রস্ত করে কোনো আইন করা হলে তিনি এর বিরোধিতা করবেন। প্রয়োজনে আইনটি পাস ঠেকাতেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: বাংলাদেশের অংশীদারত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে এমন কোনো আইন করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে মানুষের কথা বলার অধিকার সীমিত হয়। তিনি জানান, ন্যায়সংগত ও যৌক্তিক বিষয়গুলো নিয়ে তাঁরা কথা বলবেন এবং মানুষের স্বাধীন কণ্ঠ রোধের উদ্দেশ্যে আইন করা হলে সেটি গ্রহণ করবেন না।
সেমিনারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তাঁর দাবি, বিদ্যমান সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে তিনবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের। ভবিষ্যতে যাতে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য প্রায় ২৫টি এজেন্সিকে মাস্টার এজেন্সি হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে এবং তাদের অধীনে সহযোগী এজেন্সি কাজ করবে। এসব এজেন্সি নির্বাচনের মানদণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা নেই—এমন কিছু প্রতিষ্ঠানও নির্বাচিত হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। তাহলে কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করা হয়েছে, তা সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে।
বিদেশে যেতে একজন বাংলাদেশি কর্মীকে প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয় উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, অনেকে জমি বিক্রি, ঋণ নেওয়া কিংবা ধার করে এই অর্থ জোগাড় করেন। ফলে বিদেশে গিয়ে আয় করে সেই ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শ্রমিকদের যাতে কোনোভাবে শোষণের শিকার হতে না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমবাজার পরিচালনার পক্ষে মত দেন।
বিদ্যমান ব্যবস্থা অব্যাহত রেখে শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হলে এর পরিণতি সরকারের জন্যও নেতিবাচক হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট ভাঙার কথাও বলেন জামায়াতের আমির। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এ এস এম শাহরিয়ার কবির। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
আ.দৈ/এসআর




















