বিদেশে কিছু পেলে ১০ শতাংশ দেওয়ার অনুরোধ আসিফ মাহমুদের
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন গ্রহণ, নিয়োগ-বদলিতে অর্থ লেনদেন ও বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার দুদকের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুদকের এ সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’
দুদকে দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকাকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিসি পদায়ন ও বিভিন্ন সরকারি পদে নিয়োগ-বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়। ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামসহ কয়েকটি প্রকল্পেও ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়েও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে বলে দুদকে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে বিপুল অর্থ স্থানান্তর, জমি কেনা, ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং ব্যাংকে অর্থ রাখার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত নয়।
দুদকের নথি অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হবে।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন আসিফ মাহমুদ। শুরুতে যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ ছাড়ার পর এনসিপিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আ.দৈ/আরএস




















