রাজধানীতে মানারাত ইউনিভার্সিটি ছাত্র নাসিম হত্যা মামলায় আসিফের মৃত্যুদণ্ড,
নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রকাশ্য দিবালোকে ৯ বছর আগে রাজধানীর পূর্ব বাড্ডায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র নাসিম আহমেদ এমাজ উদ্দিনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় তার বন্ধু আসিফ শিকদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারিক আদালত।
আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তারের বিচারিক আদালত ওই খনের মামলায় অভিযুক্ত আসিফ শিকদারকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেনন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী তানজীল হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসিফ শিকদারকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসিফ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেন বিচারিক আদালত।
মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর রাতে পূর্ব বাড্ডা পোস্ট অফিস গলির একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকানের সামনে ক্রিকেট খেলা দেখা নিয়ে বাজি ধরাকে কেন্দ্র করে চিৎকার-চেঁচামেচি হয়। সেখানে দিয়ে যাওয়ার সময় নাসিম আহমেদ এমাজউদ্দিন তাদের থামতে বলেন। এসময় সেখানে থাকা রমজান তাকে জানান, ক্রিকেট খেলা দেখা নিয়ে বাজি ধরা কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। নাসিম বাজি ধরা ও চিৎকার-চেঁচামেচি বন্ধ করতে বললে পরিস্থিতি নিয়ে তর্ক শুরু হয়।
একপর্যায়ে আসিফ রমজানকে থাপ্পড় মারেন। পরে এ ঘটনা কেন্দ্র করে রমজানসহ কয়েকজন আসিফের বাসায় গিয়ে তাকে হুমকি দেন। পরে আসিফও ফোনে তাদের হুমকি দেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়।
পরদিন ৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাজারে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন আসিফ। বাসার নিচে নাসিমের সঙ্গে তার দেখা হলে আসিফ তাকে ছুরিকাঘাত করেন। নাসিম দৌড়ে বাসার নিচে গিয়ে পড়ে যান। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ওইদিনই নাসিমের বাবা গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী আহাম্মদ সাইফুদ্দিন বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসিফ, রমজান ও আব্দুর রশীদের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আব্দুস সোবহান শুধু আসিফের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। রমজান ও আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। এর মধ্যে আসিফ পলাতক হয়ে গেলে ২০২২ সালের ১৯ মে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
আ. দৈ./একে




















