কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ খুন
‘ডিএনসিসি নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী,তাই টার্গেট ছিল বাবু’
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর মিরপুর ও কাফরুলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে জাতীয়তাবাদী যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হয়। এই ঘটনায় মূল টার্গেট ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। তিনি গণমাধ্যমকে অভিযোগ আকারে এসব তথ্য জানান।
থানা যুবদলের নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, আসন্ন সিটি নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের নেতা এসব অভিযোগ করেন। হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, গত ২৪ জুলাই দিবাগত রাতে মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় সশস্ত্র হামলায় যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে আটজনকে গ্রেফতার করেছে।
তিনি বলেন, ‘ওই হামলার মূল টার্গেট ছিলেন তিনি। তাকে চিরতরে সরিয়ে দিতে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে কিলার নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে যাই।’
এদিকে ডিবির তদন্তের প্রসঙ্গ তুলে হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, গত ২৭ জুলাই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) স্থানীয় আধিপত্য, ময়লার টেন্ডার, ফুটপাত, ডিস-ইন্টারনেট ব্যবসা ও জমি দখলকে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করাই এ হামলার মূল কারণ। তিনি অভিযোগ করেন, ‘ আসন্ন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ থেকে তাকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার নীলনকশা করা হয়। মূল চক্রান্তকারী আড়ালে থেকে হাফিজুর রহমান হাফিজকে (সিএনজি হাফিজ) সামনে রেখে কিলিং মিশন পরিচালনা করে। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্যের গল্প সাজিয়ে প্রকৃত ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।’
সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন আসামির সঙ্গে কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনির কয়েকটি ছবি প্রদর্শন করে তিনি বলেন, ‘হাফিজকে সামনে রেখে মূল ঘাতককে আড়াল করার চেষ্টা চলছে। যাদের সঙ্গে ছবি দেখানো হয়েছে, তারা সবাই একই নেতার সঙ্গে রয়েছেন। তাহলে সেই নেতাকে কি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে? হাফিজ এখনো গ্রেফতার হয়নি। তাহলে এত তড়িঘড়ি করে প্রেস ব্রিফিংয়ের কারণ কী?’
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আমি এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের কাছে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
যুবদলকর্মী ইউসুফ হত্যা গ্রেফতার ৪ জনের স্বীকারোক্তি:
উল্লেখ্য, মূল পরিকল্পনাকারী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনি এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা বলে তিনি ধারণা করেন। আবির, হাফিজ ও জিয়ারুলের সঙ্গে তার ছবি পাওয়া গেছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। নেপথ্যে থাকা নির্দেশ দাতা ও পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
সাব্বির দেওয়ান জনির বক্তব্য:
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই এ ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে আসছি। এ ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। তদন্তে যদি আমার নামও আসে, তাহলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা মেনে নিতে প্রস্তুত।’
হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি বা পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাফিজের সঙ্গে তার একাধিক ছবি থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জনি বলেন, ‘হাফিজ ২০১৫ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তার সঙ্গে ছবি থাকতেই পারে। এতে দোষের কিছু দেখি না।’
আ. দৈ./কাশেম




















