কেরানীগঞ্জে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকার কেরানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী শাহানুর আক্তারকে গলাকেটে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারিক আদালত ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪। আদালত একই সঙ্গে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থতায় আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম জর্জ।
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর প্রায় ১১ থেকে ১২ বছর আগে শাহানুর আক্তার দ্বিতীয়বারের মতো জাহাঙ্গীর আলমকে বিয়ে করেন। তারা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খালপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। জাহাঙ্গীর দিনমজুরির পাশাপাশি বিভিন্ন বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজ করতেন। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং নিয়মিত স্ত্রীর কাছে যৌতুকের টাকা দাবি করতেন। এ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিতো।
২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও বাগবিতণ্ডা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা বিষয়টি মিটিয়ে দিলে তারা নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে শাহানুরের মেয়ে মাকে ডাকতে গিয়ে দেখতে পান কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। পরে ভাইকে সঙ্গে নিয়ে দরজা খুলে খাটের ওপর কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় শাহানুরের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। ঘটনার পর জাহাঙ্গীরকে আর বাসায় পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর নিহতের ভাই জামাল উদ্দিন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম ২০১৯ সালের ১৪ জুন জাহাঙ্গীর আলমকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচারিক কার্যক্রমে ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন।
আ. দৈ./কাশেম




















