রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মহাখালীতে স্বামীকে হত্যা মামলায় স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম   (ভিজিট : ৫৩)
X

মানুষ কত প্রতিহিংসা পরায়ন এবং  কঠোর হতে  পারে, তার প্রমাণ রাজধানীর মহাখালীতে মিলছে। পাঁচ বছর স্বামীকে হত্যা করে লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে রাজধানী মহাখালীর বহুল আলোচিত হত্যাকান্ডে ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার রায় দিয়েছেন বিচারিক আদালত।

নির্মম হত্যাকান্ডে ঘটনার মামলায় পাঁচ বছর পর আদালত প্রমাণীত খুনি  ভিকটিমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বামীর লাশ গুমের দায়ে তাকে পৃথক সাজাও দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ষোড়শ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির বলেন, হত্যার দায়ে ফাতেমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মরদেহ গুমের অভিযোগে তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাহিমুল করিম আকন্দ বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে মহাখালীর আমতলী এলাকা থেকে একটি ড্রামের ভেতর মাথাবিহীন এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। একই রাতে মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা পরিবহনের কাউন্টারের সামনে একটি ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় দুই হাত ও দুই পা। পরদিন উদ্ধার হয় মরদেহের বাকি অংশ। সব মিলিয়ে ছয় টুকরো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ। অভিযান চালিয়ে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে ফাতেমা জানান, পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক বিরোধ এবং স্বামীর একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে অটোরিকশাচালক স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ছয় টুকরো করে বিভিন্ন ব্যাগ ও একটি ড্রামে ভরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।

তদন্তে আরও জানা যায়, মরদেহের মূল অংশ একটি পানির ড্রামে রেখে আমতলী এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। খণ্ডিত দুই হাত ও দুই পা একটি ব্যাগে ভরে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে রাখা হয়। আর মাথাটি একটি পৃথক ব্যাগে নিয়ে গুলশান লেক এলাকায় ফেলে আসেন ফাতেমা।

এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন ২০২১ সালের ১ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম ফাতেমার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন।

বিচার চলাকালে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে ফাতেমা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন এবং নিজের পক্ষে নিজেই সাফাই সাক্ষ্য দেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।

আ. দৈ./কাশেম



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝