অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে ইতালি যাচ্ছে টিম
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ডিএনসিসিতে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ !
আবুল কাশেম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং বর্তমান সরকারের জারি করা অফিস আদেশ অমান্য করে অপ্রয়োজনীয় একাধিক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে ‘ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়কে পুঁজি করে ইতালিতে বিলাশী ভ্রমণ যাচ্ছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) একটি টিম। অর্থিকভাবে দুর্বল ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ডিএনসিসির অর্থ ব্যয় করে আগামী জুন মাসে ইতালি ভ্রমণকে কেন্দ্র করে ডিএনসিসিতে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডিএনসিসিতে গুরুত্ব পূর্ণ পদে এবং দায়িত্বে স্থায়ী মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণ বেশি প্রয়োজন।
গত ৩০ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-১ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগ থেকে ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর জারিকৃত ‘সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণকালে বৈদেশিক মুদ্রায় প্রাপ্য ভ্রমণ ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা’ সংক্রান্ত নীতিমালার অনুচ্ছেদ ২১(খ)-এ যা-ই থাকুক না কেন, বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এবার সরকারি ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারের অতিরিক্ত সচিব বা সমপর্যায়ভুক্ত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্ব-শাসিত, সংবিধিবদ্ধ কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তাকে আকাশপথে বিদেশ ভ্রমণের সময় বিজনেস, ক্লাব বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণির পরিবর্তে সুলভ শ্রেণিতে (ইকোনমি ক্লাস) ভ্রমণ করতে হবে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ
এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা ‘আজকের দৈনিক’ পত্রিকাকে বলেন, নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে দফায় দফায় দলবলে বড় বড় টিম নিয়ে চীন, জাপান, আমেরিকা, সিংগাপুর, মালয়েশিয়া, জার্মান, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণে যান। বিদেশ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনকারী অধিকাংশ কর্মকর্তাই দেশে ফিরে এসে ওই অভিজ্ঞতা বাস্তবে আর কাজে লাগান না। তারা অন্য দপ্তরে বদলি হয়ে যান কিংবা চাকরি থেকে অবসরে চলে যান।
ওই অভিজ্ঞতার সনদটা তার ব্যক্তিগত ফাইলেই থাকে। যে প্রতিষ্ঠানের অর্থেিবিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণ সেই তেমন একটা প্রতিষ্ঠান লাভবান হয় না বললেই চলে। তার পরেও প্রতিবছর সরকারের কতিপয় আমলা,অতিরিক্ত সচিব,যুগ্ম সচিব, উপ সচিব ,সহকারী সচিব সহ রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া মেয়র এবং প্রশাসকদের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারি (এপিএস) কর্মকর্তারা রাজকীয় স্টাইলে দফায় দফায় বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত একাধিক কর্মকর্তাও ডিএনসিসি এবং ডিএসসিসির অর্থে ফুরফুরা মেজাজে বিদেশ ভ্রমণ করেন।
ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে ইতালি ভ্রমণে থাকছেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগরে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিএন্ডটি) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফজলে রাববী, বর্তমান প্রশাসকের সহকারী একান্ত সচিব আল-আমীন আলম প্লাবন এবং মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। এবার প্রশ্ন দাড়িয়েছে বিভাগীয় এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণ অবশ্যই প্রয়োজন। কারণ বিভাগীয় প্রধান তার অধিনস্থদের কাজের নির্দেশ প্রদানে তার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু প্রশাসকের নিজেরই মেয়াদ এক বছর। আর তার রাজনৈতিক বিবেচনায় সহকারী একান্ত সচিব আল-আমীন আলম প্লাবনের মেয়াদও ঠিক এক বছরই। তার বিদেশ ভ্রমণ ডিএনসিসি কতটুকু লাববান হবে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের যে কর্মকর্তা এই ভ্রমণে থাকছেন, তার অভিজ্ঞতাই বা ডিএনসিসির কি উপকারে আসবে। এধরনের অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম মিলটন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর সামনে আগের প্রশাসকের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, লোপাট ,অপ্রয়জনীয় ২খাতে অর্থ ব্যয় এবং এই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টানা দুই মাসের বেতন ভাতা পরিশোধ করার মতো টাকা ফান্ডে নেই বলে ছিলেন। কিন্তু তিনি নিজেও সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের স্টাইলে অপ্রয়োজনীয় খাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় শুরু করেছেন। আগের প্রশাসক এজাজের সহযোগি হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন মাহবুবুর রহমান। তার কোন নির্ধারিত চেয়ার টেবির ছিল না। তার পরেও সবকিছুতেই দাপট ছিল মামহবুবুর রহমানের। ঠিক ।তেমনি বর্তমান প্রশাসকের একজন দাপটের কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। তাকে নিয়ে ডিএনসিসির টপ টু বটম বেশ আলোচনা চলছে ।
আ. দৈ./কাশেম




















