আ.লীগ নেতাকে ছাড়াতে বিএনপি নেতার দৌড়ঝাপ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মিরহাজীরবাগ এলাকার বাপ্পি হত্যা মামলার আসামীকে থানা থেকে ছাড়াতে এক বিএনপি নেতার দৌড়ঝাপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি গত রোববার রাতের। বাপ্পি হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ আসামী ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি হায়দার আলীর ছেলে হুমায়ুন কবির।
তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। গত ১৯ এপ্রিল রাতে গ্রেপ্তার করা হয় হুমায়ুন কবিরকে। থানার সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, তাকে ছাড়াতে যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদল সর্দার রাত ১২ টার দিকে থানায় গিয়ে তদবির করেন। এতে স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফ্যাসিস্টের দোসরকে ছাড়াতে বিএনপি নেতার এমন আচরনে তারা হতবাক।
জানা গেছে, গতবছর ১১ নভেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় এক বাসায় চুরি করতে গিয়ে জনতার গণপিটুনিতে মারা যায় বাপ্পি নামের এক যুবক। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। মামলায় বেশকজনকে আসামী করা হয়। যাদের মধ্যে অনেকেই গ্রেপ্তার হয়ে পরে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। ওই মামলার সন্দিগ্ধ আসামী ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবির। তার ছেলে মাহির আহসাব ওরফে আবীর।
তিনি যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক। হত্যার ঘটনার সময় বাপ্পীর বন্ধু রায়হানকে হুমায়ুন কবির ও তার ছেলেসহ মামলার বিভিন্ন আসামি ও অজ্ঞাত আসামীরা মারধর করে ও রায়হানের সামনে বাপ্পীকে পিটিয়ে হত্যা করে। রায়হান ইতিমধ্যে প্রধান সাক্ষী হিসেবে হুমায়ুন কবির ও তার ছেলেসহ বিভিন্ন আসামীদের নাম জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালে অসংখ্য বিএনপি নেতাকর্মীকে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা ফাঁসানোর অভিযোগ রয়েছে এই হায়দার আলীর আওয়ামী পরিবারের বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিলেও হুমায়ুন কবির ও তার ছেলে এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। সম্প্রতি বাপ্পি হত্যা মামলায় জামিনে মুক্ত হন আবির। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে আবির ও তার সহযোগিরা। স্থানীয়রা মনে করছেন হুমায়ুন কবিরকে পুলিশ গ্রেপ্তারের পর থানায় বিএনপি নেতা বদল সরদার ছাড়াতে যাওয়ার পেছনে মোটা অংকের লেনদেন রয়েছে।
মহানগর গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন কবির ও তার ছেলে আবির বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ আসামি। তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে এমনটাই জানতে পেরেছে গোয়েন্দারা। শিগগিরই তাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।




















