রহস্যজনক ভুমিকায় এসি ল্যান্ড জাহাঙ্গীর
গাইবান্ধা শহরে পাঁচশ’ কোটি টাকার পরিত্যক্ত সম্পত্তি ১৭ বছরেও উদ্ধার হয়নি
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাইবান্ধা জেলা শহরের আদর্শপাড়া এলাকায় পরিত্যক্ত ৬০ বিঘা সম্পত্তি গত ১৭ বছরেও উদ্ধার হয়নি। এলাকার প্রভাবশালী ভূমি দস্যুরা অবৈধভাবে জবর দখল করে ভোগ করে আসছে। যার বর্তমান মূল্য কমপক্ষে ৫’শ কোটি টাকা।
বিষয়টি ২০০৯ সালে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তৎকালীন সময়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্রিকা কাটিংসহ ফাইলপত্র তৎকালীন গাইবান্ধা সদরের এসি (ল্যান্ড) অফিসে প্রেরণ করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ভুমি অফিস তদন্তের নামে ভূমি দস্যুদের সাথে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ফাইলটি অফিসের লাল ফিতায় বন্দি করে রাখেন।
সম্প্রতি বেশ কয়েক দফা বর্তমান এসি জাহাঙ্গীর আলম বাবুকে ফাইলটি সম্পর্কে বেশ কয়েক দফা অবগত করা হলেও তিনিও রহস্যজনক কারণে ফাইলটি অগ্রগামী করছেন না! স্থানীয়দের ধারনা তিনিও ভুমিদস্যুদের কাছে ম্যানেজ হয়ে গেছেন।
জানা গেছে, সোলায়মান আলী তার পরিবার পরিজন নিয়ে ১৯৭০ সালে ভারত থেকে এসে গাইবান্ধা শহরের আদর্শপাড়া (গোবিন্দপুর মৌজায়) এলাকায় বসতি স্থাপন করে। এ সময় একই এলাকার বিধু ভূষন দাস, যতিন্দ্র চন্দ্র দাসসহ ৫/৬টি পরিবার ভারতে চলে যাওয়ার আগে সোলায়মান আলীর কাছে তাদের সব সম্পত্তি কবলা দলিল মূলে বিক্রি করে দেয়। সোলায়মান আলী এই ৫/৬টি পরিবারের সম্পত্তি নিজের নামে ও তার ৭ পুত্র হোসেন আলী, আব্দুস সামাদ, আব্দুল লতিফ, জয়নাল আবেদীন, ইব্রাহিম আলী, ইসমাইল হোসেন ও আবু বক্করের নামে কবলা দলিল করে নেয়।
স্থানীয় সুত্র জানায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন হলে ভারতে চলে যাওয়া ৫/৬টি পরিবারের লোকজন দেশে ফিরে এসে সোলায়মান আলী ও তার পরিবারের ওপর অন্যায় অত্যাচার করে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং জমিগুলো জোরপূর্বক দখল করে নেয়। ফলে সোলায়মান আলী ও তার পুত্রদের নামে ক্রয় করা জমিগুলো বিক্রি না করে বা তাদেরকে দলিল ভুলে ফেরত না দিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে পুনরায় তারা ভারতে চলে যায়। ওই সময় এলাকার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিও জোরপূর্বক কিছু জমি জবর দখল করে নেয়। হিন্দু পরিবারের দখলকৃত জমি গুলো তারা পুনরায় বিক্রি করে দেয়। এভাবেই দীর্ঘদিন থেকে জমিগুলো হাত বদল হচ্ছে।
সুত্র আরো জানায়, বিষয়টি ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলে তৎকালীন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। জেলা প্রশাসন অফিস থেকে পেপার কাটিংসহ বিভিন্ন ফাইলপত্র তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট দাখিল করার জন্য গাইবান্ধা সদরের এসি ল্যান্ড অফিসে প্রেরণ করেন। তৎকালীন এসি ল্যান্ড ছিলেন লুবনা সিদ্দিকী। তার নির্দেশেই তৎকালীন কানুনগো গোলাম হাবিবের নেতৃত্বে সার্ভেয়ার আঃ আউয়াল, তৎকালীন থানসিংহ পুর ভুমি অফিসের তহশীলদার মাহমুদুল হাসান, এমএলএসএস আঃ সোবহানসহ ৪ সদস্যের তদন্ত দল স্থানীয় অসংখ্য গন্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে সরেজমিনে তদন্ত করেন এবং দলিলপত্র গুলো জেলা রেজিষ্ট্রার অফিসের রেকর্ডরুম থেকে যাচাই-বাছাই করে সুনির্দিষ্ট প্রমানপত্র সংগ্রহ করেন। পরে গাইবান্ধা সদরের এসি ল্যান্ড অফিসের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ভূমি দস্যুদের সাথে গোপনে আঁতাত করে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে জেলা প্রশাসন অফিসে রিপোর্ট প্রেরণ না করে ফাইলটি অফিসের লাল ফিতায় বন্ধ করে রাখেন।
এদিকে এলাকার সচেতন মহল ওই সময় বেশ কয়েক দফা বিষয়টির অগ্রগামী সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করে রিপোর্ট সম্পর্কে কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারেনি। তাই এলাকার সচেতন মহল সরকারী অফিস থেকে ফাইলটি অফিসের লাল ফিতায় বন্ধ হওয়ার মূল রহস্য খুঁজে বের করা এবং আদর্শপাড়ার ওই হলদিয়ার বিল নামক স্থানের ৫’শ কোটি টাকা মুল্যের ৬০ বিঘা মালিক বিহীন পরিত্যক্ত জমি বিষয়ে যেহেতু সরকারী স্বার্থ জড়িত আছে, সেহেতু উক্ত জমি উদ্ধার করার জন্য পুনরায় ভূমি মন্ত্রণালয়সহ গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে জোর দাবী জানিয়েছে। এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
আ.দৈ. /কাশেম/ ইমু





















