সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পরবর্তী শুনানি ৭ জুলাই আসামি পক্ষের শুনানি
শেখ হাসিনার অপরাধের মামলায় চার্জ গঠনে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫, ৭:০৫ পিএম  আপডেট: ০১.০৭.২০২৫ ৭:২১ পিএম  (ভিজিট : ১৭৫)
X

বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা গতবছর ‘জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে’ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত  তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ /চার্জ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের শুনানি শেষ হয়েছে। অপর দুই আসামি হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশ প্রধান (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। এরমধ্যে গেস্খপ্তার হয়েছেন শুধুমাত্র সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

আজ মঙ্গলবার (১ জুলাই) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে শুনানি শুরু হয়, চলে প্রায় ১টা পর্যন্ত। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শুনানি সম্পন্ন করেন। তবে পলাতক আসামিদের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত স্টেট ডিফেন্স অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সোমবার (৭ জুলাই) পরবর্তী দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ছাত্র-জনতাকে নির্মূলের নির্দেশ দাতা পলাতক আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে । মানবতাবিরোধী অপরাধে এ মামলার বিচার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

এই তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দ তালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার রয়েছে। সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ৮১ জন।

চিফ প্রসিকিউটর :

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে একদিনও বেশি সময় নিচ্ছি না, নেবোও না। যথাসময়ে বিচার শেষ করতে যা করা দরকার আমরা সেটা করবো। বাকিটা নির্ভর করবে আদালতের কার্যধারার ওপর। সেই এখতিয়ার আদালতের।
জুলাই-আগস্টে মানবাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিচারে মঙ্গলবার (০১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়।

এছাড়া, শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের নির্দেশে সারা দেশে পদ্ধতিগতভাবে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।জুলাই আন্দোলন দমনে সারা দেশে ৩ লাখ ৫ হাজার ৩১১ রাউন্ড গুলি ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। শুধু ঢাকায় ছোড়া হয় ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড তাজা বুলেট। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার অভিযোগ গঠন শুনানিতে এসব তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এদিন আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর পলাতক ২৬ জনের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

তাজুল ইসলাম বলেন, বিচারের জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন বিচার সেই গতিতে এগোচ্ছে। এটাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা এবং পাশাপাশি ন্যায়বিচারের সব স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করা- এ দুটোকে মেইনটেইন করে আমরা চলছি। তাতে কয়দিন সময় লাগছে সেটা কয়ারি করার সময় নেই। তিনি বলেন, বিচারকে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমাপ্ত করতে হবে। সেজন্য তাড়াহুড়ো করে মোবাইল কোর্টের মতো মামলার বিচার শেষ করা এখানে সম্ভব নয়।

তাজুল ইসলাম বলেন, বাকি বিচার প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত এগোবে এটা আদালত নির্ধারণ করবেন। আমরা একদিনও বেশি সময় নিচ্ছি না, নেবোও না। যথাসময়ে বিচার শেষ করার জন্য যা করা দরকার আমরা সেটা করবো। বাকিটা নির্ভর করবে আদালতের কার্যধারার ওপর। সেই এখতিয়ার আদালতের।

রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী :
জুলাই-আগস্টে সারাদেশে হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ থেকে শেখ হাসিনাকে খালাস করানোর চেষ্টা করা হবে।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে এ মন্তব্য করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য দুই আসামি হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

 এদিকে গত ১৬ জুন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে এক সপ্তাহের মধ্যে হাজির হতে দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল এবং ২৪ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়। পরদিন ১৭ জুন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

পত্রিকায় এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চলবে। মামলার আরেক আসামি সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন।
 
আ. দৈ./কাশেম



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝