রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আইনগত স্বীকৃতি পেল নিউজিল্যান্ডের তারানাকি পর্বত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬:৩৫ পিএম   (ভিজিট : ৩৭৫)
ছবি: অনলাইন
X

ছবি: অনলাইন

নিউজিল্যান্ডের একটি পর্বত এবার মানুষের মতোই আইনগত অধিকার পেল। বহু বছর ধরে চলা আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে তারানাকি মাউঙ্গা (মাউন্ট তারানাকি) নিজস্ব মালিকানা কার্যকরভাবে অর্জন করল। এর পরিচালনার দায়িত্ব ভাগ করে নেবে স্থানীয় মাওরি উপজাতি ইউয়ি এবং সরকারের প্রতিনিধিরা। খবর বিবিসির।

এই আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো উপনিবেশিক শাসনের সময় বাজেয়াপ্ত হওয়া জমি এবং স্থানীয় মাওরি জনগণের প্রতি করা অবিচারের কিছুটা হলেও প্রতিকার দেওয়া।

নিউজিল্যান্ড সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী পল গোল্ডস্মিথ বলেন, ‘আমাদের অতীতের ভুলগুলো স্বীকার করতেই হবে। যাতে আমরা ইউয়িদের নিজস্ব আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনাকে সম্মান জানিয়ে তাদের ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে পারি।’

গত বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে পাস হওয়া "তারানাকি মাউঙ্গা কালেক্টিভ রিড্রেস বিল" পর্বতটিকে একটি স্বতন্ত্র আইনি পরিচয় দিয়েছে। এর আশপাশের চূড়া ও সংলগ্ন জমিকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সুরক্ষা।

এই বিলটি মাওরিদের দৃষ্টিভঙ্গির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়, যেখানে তারা পর্বত, পূর্বপুরুষ ও প্রকৃতিকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে বিবেচনা করে।

মাওরি পার্টির সহ-নেতা ডেবি নারওয়ে-প্যাকা বলেন, ‘আজ আমাদের পবিত্র পর্বত তারানাকি অবিচার, অজ্ঞতা ও শোষণের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেল।’

তিনি আরও জানান, পশ্চিম উপকূলে বসবাসরত আটজন তারানাকি ইউয়িদের একজন হিসেবে এই সিদ্ধান্ত তার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিলটি পাস হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তটি প্রত্যক্ষ করতে শত শত মাওরি পার্লামেন্টে উপস্থিত ছিলেন।

এর ফলে পর্বতটির ব্রিটিশ প্রদত্ত নাম "এগমন্ট" আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে এটি "তারানাকি মাউঙ্গা" নামে পরিচিত হবে। তার চারপাশের জাতীয় উদ্যানকেও একটি মাওরি নাম দেওয়া হবে।

নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত ওয়েটাঙ্গি চুক্তি লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই আইনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ১৮৬০-এর দশকে তারানাকি অঞ্চলের মাওরিদের কাছ থেকে ১০ লাখেরও বেশি একর জমি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে সরকারের ক্ষমা প্রার্থনার অংশ হিসেবে পল গোল্ডস্মিথ বলেন, ‘চুক্তি লঙ্ঘনের ফলে হোয়ানু (পরিবার), হাপু (উপ-উপজাতি) এবং তারানাকির ইউয়ির ওপর যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয়েছে, তা কখনোই পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও আশ্বাস দেন যে, এই পর্বত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।

উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডে এর আগেও প্রাকৃতিক নিদর্শনকে জীবন্ত সত্তার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে উরেওয়েরা বন এবং ২০১৭ সালে হোয়াংগানুই নদী এই বিশেষ মর্যাদা পেয়েছিল।

আ. দৈ./ সাধ






Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝