বিদেশে নাসা গ্রুপের নজরুল ও স্ত্রীর ৮৫ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের চিহ্নিত ঋণ খেলাপি ও অর্থপাচারের দায়ে অভিযুক্ত নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং তার স্ত্রী নাসরিন ইসলামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে যুক্তরাজ্যের জার্সিতে থাকা প্রায় ৫৩ লাখ পাউন্ড জব্দ ও অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৮৫ কোটি টাকা।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। জানা যায়, জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে ‘ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে এ অর্থ রয়েছে। দুদকের আবেদনে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মালিকানা নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার স্ত্রী নাসরিন ইসলামের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ আগস্টের হিসাব অনুসারে ওই ব্যাংক হিসাবে ৫ দশমিক ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড জমা ছিল। দুদকের আবেদনে বলা হয়, ‘ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড’ আইল অব ম্যানের ঠিকানায় ২০১৯ সালের ১৭ মে নিবন্ধিত হয়। একই বছরের ২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির নামে জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার পরিবারের সদস্য এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে দেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া, আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অর্থের একটি অংশ যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান, জার্সি ও হংকংয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে আদালতে দেওয়া আবেদনে দাবি করেছে সংস্থাটি।
দুদক আরও বলেছে, বিদেশে অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) দাখিল করা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ না করে গোপন করা হয়েছে।
নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দুটি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরও দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট দায়ের করা একটি অর্থ পাচার মামলায় ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
দুদকের আবেদনের শুনানি শেষে আদালত জার্সির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ‘ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড’-এর ব্যাংক হিসাবের অর্থ জব্দ ও ফ্রিজ করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদও জব্দ বা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন।
আ. দৈ./ একে




















