গায়ে হাত দেওয়ার’ অভিযোগে পরীমণির সঙ্গে বিতর্ক, সহকর্মীদের দাবি—রাজুর এক হাত অচল
বিনোদন ডেস্ক

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসেন রাজুকে গালিগালাজ ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে। তবে রাজুর সহকর্মীদের দাবি, জন্মগতভাবে তাঁর একটি হাত প্রায় অচল এবং অন্য হাত ব্যবহার করেই তিনি সাংবাদিকতার কাজ করেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
রাজুর সহকর্মী ও সমকাল-এর নিউজ এডিটর রফিকুল রঞ্জু ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানান, রাজুর একটি হাত প্রায় সম্পূর্ণ অচল। অন্য হাত দিয়ে কষ্ট করে মুঠোফোন ব্যবহার করে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অমানবিক উল্লেখ করে নিন্দা জানান রফিকুল রঞ্জু।
আগামীর সময়-এর সাংবাদিক আমজাদ হোসেন হৃদয়ও দাবি করেন, রাজুর জন্মগতভাবে একটি হাতের আঙুল নেই। তাঁর প্রশ্ন, শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে কীভাবে তাঁর বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ আনা হলো।
টাইমস টুডের সাংবাদিক শাহ রিয়াজ ফেসবুকে লেখেন, আদালতে প্রবেশের সময় পরীমণি রাজুর হাত থেকে মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছিলেন। পরে ফোন ফেরত পান রাজু। শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় আবারও তাঁকে গালিগালাজ ও হেনস্তা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় পরীমণির ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন বলেও অভিযোগ করেন শাহ রিয়াজ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় পরীমণি সাংবাদিক রাজুর ওপর ক্ষিপ্ত হন। রাজু ভিডিও ধারণ করতে সামনে এগিয়ে গেলে তাঁকে উদ্দেশ করে পরীমণি বলেন, ‘তুই আমার গায়ে হাত দিয়েছিস কেন।’ জবাবে রাজু অভিযোগ অস্বীকার করেন। এরপরও তাঁদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরীমণির নিরাপত্তাকর্মীরাও রাজুর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তোলেন।
পরবর্তী সময়ে পরীমণি ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা রাজুকে গালিগালাজ ও হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর হাতে নখের আঁচড় দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এদিকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে করা একটি মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন পরীমণি। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকার মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত প্রাঙ্গণের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
আ.দৈ/আরএস




















