মন্ত্রী-আমলারা দেশের টাকায় বিদেশে চিকিৎসা নেন : ফুয়াদ
নিজস্ব প্রতিবেদক

উন্নত চিকিৎসায় বিদেশ নির্ভরতার কঠোর সমালোচনা করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয় হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সব আমলেই। হেলথ সিস্টেমকে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, ইউকে ও ভারতনির্ভর করে ফেলা হয়েছে।
দেশের মন্ত্রী, আমলা, বিচারকদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে থাকেন, বাংলাদেশে টাকা ইনকাম করেন। অথচ চিকিৎসা নিতে অন্য দেশে যান। লজ্জা লাগে না আপনাদের?
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভাটি এবি পার্টি ডক্টরস ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয়।
আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশে আইন করতে হবে, প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মচারী, নির্বাচিত-অনির্বাচিত কেউ সরকারি হাসপাতাল ছাড়া চিকিৎসা নিতে পারবেন না। প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারি অফিসের পিয়ন পর্যন্ত সবাইকে ঢাকা মেডিকেল বা বাংলাদেশ মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে হবে। সন্তানদের সরকারি স্কুলে পড়াতে হবে। ভিক্টর ক্লাসিক আর অছিম পরিবহনের মতো ভাঙা মুড়ির টিনের বাসে চড়তে হবে। তখন দেখবেন পাবলিক সার্ভিস বেটার হয় কি না।
হামের টিকাদানে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, হাম নিয়ে ইউনিসেফ গত বছর নোংরা পলিটিক্স করেছে। সরকার ইউনিসেফের বাইরে থেকে সরাসরি গ্যাভি থেকে কম টাকায় টিকা কিনতে পারবে কি না, এমন একটা আলোচনা হচ্ছিল, নীতিমালা করার আলোচনা ছিল।
‘কিন্তু ইউনিসেফের কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর দেখলেন, তার সারা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় টিকা বিক্রির বাজার হলো বাংলাদেশ। এই বাজার হাতছাড়া হচ্ছে কি না। তখন অনেককে ভুয়া হাম বিশেষজ্ঞ বানানো হলো। মেহের আফরোজ শাওনও হাম বিশেষজ্ঞ হয়ে গেলেন। জ ই মামুনরা হাম বিশেষজ্ঞ হয়ে গেলেন। এই দালালিটা আমরা দেখলাম।
তিনি বলেন, টিকার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবচেয়ে বেশি বাজেট দিয়েছিল। টিকার কোনো ঘাটতি ছিল না। কিন্তু ইউনিসেফ পরিকল্পিতভাবে এই নোংরা পলিটিক্স করেছে। এগুলো তদন্ত হওয়া দরকার। তদন্ত না হলে এই সরকারকেও কিন্তু আগামী দিনে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা হতে পারে।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। যেখানে সরকারি তথ্যের চেয়ে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বহুগুণ বেশি। সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ ও কোমলমতি শিশুরা ভাইরাসজনিত কারণে হঠাৎ মৃত্যুমুখে ঢলে পড়ায় স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা. মোজহারুল, হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মোজাহিদ শুভ, ইএনটি বিশেষজ্ঞ আরিফ মোর্শেদ খান ও জবি অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন প্রমুখ।
আ. দৈ./ একে




















