যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে: জাহেদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তার ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করলে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘ড. ইউনূস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। সেখানে বিমানবন্দরে তাকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়াই তার বিরুদ্ধে হেনস্তার চেষ্টার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ড. ইউনূসের সরকারের কার্যক্রম নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা থাকতে পারে। তিনি নিজেও দেশে বসে সেই সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এ ধরনের হেনস্তা গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি বলেন, ‘একই ধরনের আচরণের চেষ্টা করা হয়েছে সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর (প্রতিমন্ত্রী) ক্ষেত্রেও। জুলাই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করা একজন অভিনেত্রীও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিও এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এসব ঘটনাকে সরকার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস হিসেবে দেখছে।’
এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ওই অভিনেত্রীর ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের যে মর্যাদা (ভিভিআইপি) পাওয়ার কথা, যুক্তরাষ্ট্রে তার নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখবে।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’
শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার হয়েছে এবং সাজা হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরে এলেও সরকারের কোনো সমস্যা নেই। বরং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার দেশের বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে।’
ড. ইউনূসের প্রশ্নটা যেহেতু চলে এসেছে, আমি শুধু একটা বিষয় একটু জানতে চাই, বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যম যখনই জুলাইয়ের সঙ্গে বা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্ত কেউ হেনস্তার শিকার হন, তখন বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যম এমনভাবে নিউজ করে, যে মনে হয় যেন এটা তার প্রাপ্যই ছিল। এগুলো আপনি তথ্য ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে একজন উপদেষ্টা হিসেবে মনিটরিং করছেন কি না বা ওইসব গণমাধ্যম আপনাদের মানে দৃষ্টির মধ্যে আছে কি না?
এক সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একটা কথা একটু মনে রাখবো সবসময়, এই আলাপটা আগেও হয়েছে। মানে কোনো আচরণ ক্রিমিন্যাল অফেন্স কি না, মানে এই যে কিছু মিডিয়ার ফ্রেমিংয়ের কথা বলছেন, কিছু মিডিয়ার এ ধরনের ফ্রেমিং আছে, এটা আমাদের নিশ্চয়ই চোখে আছে। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের একটা অংশ হচ্ছে জিনিসগুলো খেয়াল রাখা। মন্ত্রণালয় খেয়াল রাখে সে কী করবে, সেটা আবার আরেকটা ইস্যু। সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ড. ইউনূস যা করেছেন এই দেশে যেভাবে করেছেন, সেটার সমালোচনার কোন ঢংটা, কীভাবে তাকে ফ্রেমিং করাটা আমাদের আইনি চৌহদ্দীর মধ্যে থাকবে, সেই ব্যাপারটা নিশ্চয়ই মনিটরিং আছে।’
‘আবার একই সঙ্গে আমি এটাও বলতে চাই, প্রত্যেকটা ঘটনাকে সে তার তার দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার স্কোপ আসলে তার থাকে। এটা একেবারে আমরা উড়িয়ে দিতে পারি না, তারা করে। আমি এটুকুই বলতে চাই, সেটা হচ্ছে মিডিয়ার ক্ষেত্রে বা অন্যান্য জায়গায়, যে কেউ যেভাবে দেখুক না কেন, তিনি যদি খুব উদ্ভট কোনো কিছু ইন্টারপ্রেট করার চেষ্টা করেন, ফ্রেমিংয়ের চেষ্টা করেন, সেটা আল্টিমেটলি আসলে প্রত্যাখ্যাত হয় এবং ফ্রেমিং আমি মনে করি যে এটা করে যে খুব বেশি লাভ হয়, আমার কাছে মনে হয় না।’ যোগ করেন তিনি।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আবার একই সঙ্গে বলেও রাখি, প্রত্যেকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে যদি তার (গণমাধ্যম) আইনি সীমা লঙ্ঘন করেন, তাতে যিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তিনি চাইলে কিন্তু সেটার ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে, সেটা তো রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আছেই।’
আ. দৈ./একে




















