দেশে অরাজকতার সৃষ্টির চেষ্টা করছে কিছু দল : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে কয়েকটি দল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬ বছরে দেশে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে কিছু রাজনৈতিক দল বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন এবং বন্ধ থাকা মিল-কারখানা চালুর মতো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হলে এর ক্ষতি দেশের সাধারণ মানুষেরই হবে।
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণকে বিভ্রান্ত করে দলটি কয়েকটি সংসদীয় আসনে জয় পেয়েছে। তিনি দলটির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগও তোলেন। একটি কথিত গুপ্ত বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে এ ঘটনায় একজনের মৃত্যুর কথাও উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যদের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার আগে নিজেদের দলের কর্মকাণ্ডের দিকে নজর দেওয়া উচিত। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা যেকোনো মূল্যে বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী দেশের স্বার্থ ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিভ্রান্তি থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে এবং জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের সিদ্ধান্ত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিকে জনগণের কল্যাণের কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করা হলে তার জবাব দিতে হবে।
তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, জনগণের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে হবে। পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে উপজেলার হাসপাতালটি ৫০ শয্যার। স্থানীয় মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এটিকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। এর ফলে উপজেলা পর্যায়ের মানুষকে চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা ঢাকায় ছুটতে হবে না বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে পরশুরামের খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন’ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বক্তব্য দেন পরিবেশমন্ত্রী ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হেসেন আজাদ এবং ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু।
সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে যান। সেখানে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় স্থাপিত রুফটপ সোলার ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
আ.দৈ/এসআর




















