রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হামের বিশেষ টিকাদান, টিকা পাবে ৩৪ লাখ শিশু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৯ পিএম   (ভিজিট : ০)
X

দেশে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া এবং নতুন করে টিকাদানের বয়সে আসা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে এ কার্যক্রম চলবে। রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় একযোগে দেশের সব এলাকায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। শুধু নির্ধারিত কেন্দ্রের ওপর নির্ভর না করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, দেশে বর্তমানে হামের টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। হাতে থাকা ও নতুন করে পাওয়া মিলিয়ে প্রায় ৫৮ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে। অপচয়ের হিসাব বাদ দিলেও প্রায় ৫২ লাখ ডোজ ব্যবহারের উপযোগী থাকবে। বিশেষ কর্মসূচির জন্য প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন হবে প্রায় ৩৪ লাখ ডোজ। তবে কর্মসূচি শুরুর দিনে কোনো শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ না হলে তাকে টিকা দেওয়া হবে না। পরবর্তী সময়ে বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে ওই শিশুকেও টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগের ভিটামিন এ কর্মসূচির তথ্য বিশ্লেষণ করে হামের টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই কর্মসূচিতে প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ শিশুর তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে প্রথম ধাপে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ দেওয়ার পর আরও প্রায় ৪৩ লাখ শিশু বাদ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে আরও ১৯ লাখ শিশুকে কর্মসূচির আওতায় আনা হয়।

অবশিষ্ট প্রায় ২৪ লাখ শিশুর সঙ্গে টিকাদানের বয়সে নতুন করে আসা প্রায় ১০ লাখ শিশুকে যোগ করে মোট ৩৪ লাখের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যার হিসাব সব সময় শতভাগ নির্ভুলভাবে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই আগের কর্মসূচির তথ্য ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বিবেচনায় নিয়ে এ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার পরও কোনো শিশু বাদ পড়লে তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া শিশুদের অধিকাংশই টিকাবিহীন। বিশেষ করে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের নিয়ম অনুযায়ী টিকা দেওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পরও বিভিন্ন কারণে টিকা না নেওয়া শিশুরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছে।

অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের কর্মব্যস্ততার কারণে শিশুকে টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার মতো কেউ না থাকায় টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি। হামে আক্রান্ত শিশুর নিউমোনিয়া হলে পরিস্থিতি জটিল আকার নিতে পারে। অপুষ্টিতে ভোগা ও পর্যাপ্ত বুকের দুধ না পাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি বেশি বলে চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

নিউমোনিয়াসহ জটিলতা দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন, সিপ্যাপ ও ভেন্টিলেটরের সহায়তা দিতে হয়। দেশে তৈরি তুলনামূলক কম খরচের সিপ্যাপ ব্যবহার করে অনেক শিশুর চিকিৎসায় সফলতা পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। হামের জন্য আলাদা কোনো নতুন চিকিৎসা প্রটোকল নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, রোগীর জটিলতা অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

৩১ অক্টোবরের পরও চলবে অনুসন্ধান

বিশেষ কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে মপআপ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, টিকা নেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে। ফলে বিশেষ কর্মসূচির পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদানের আওতায় নতুন করে বয়সে আসা শিশুদেরও ধারাবাহিকভাবে টিকা দিতে হবে।

হামের পাশাপাশি ডেঙ্গু মোকাবিলায়ও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। জেলা সদর, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় কয়েক মাস ধরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশা নিয়ন্ত্রণে স্প্রে ও ওষুধ প্রয়োগ চলছে। প্রতি শনিবার দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রম ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ডেঙ্গু রোগীদের উপজেলা পর্যায়েই প্রাথমিক চিকিৎসা, স্যালাইন ও জ্বরের ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি প্লাজমা লিকেজ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব বলে জানান মন্ত্রী। তবে অনেক রোগী সরাসরি বড় হাসপাতালে যাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে রোগীর চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে জেলা ও বড় শহরগুলোতে মোবাইল হাসপাতাল ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং স্যালাইন ও ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে থাকা অন্য শিশুরাও ঝুঁকিতে পড়ে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত পূরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আ.দৈ/এসআর





Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝