আইফোন ছিনিয়ে নিতে নির্জন পাহাড়ে নিয়ে হত্যা করা হয় অপ্রতিমকে
নিজস্ব প্রতিবেদক

দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পূর্বপরিকল্পনা থেকেই শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ফেলে রেখে আইফোন নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
রোববার কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান গ্রেপ্তার তিন আসামির জবানবন্দির বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানান। এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিয়াম নামে আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর করা সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন বনের দিকে যেতে দেখা যায়। প্রযুক্তির সহায়তায় তুহিনকে নজরদারিতে এনে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের আইফোন নেওয়ার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও পরে কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে জঙ্গলের ভেতর অপ্রতিমের ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সে বাধা দিলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় তারা।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর তুহিন প্রথমে ফোনটির বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে প্রকৃত তথ্য পাওয়ার পর তার বাড়ি থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও মদত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আ.দৈ/আরএস




















