বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নজর রাখবে এআই ক্যামেরা ঢাবি ক্যাম্পাসে কে ঢুকছে কে বের হচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম   (ভিজিট : ১৪)
X

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার ও অপরাধী শনাক্তকরণে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে নতুন ডিজিটাল সিস্টেমের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের দাবি, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কে প্রবেশ করছে, কে বের হচ্ছে- তা আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধ ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করতেও প্রযুক্তিটি সহায়ক হবে। তবে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের প্রশ্ন- সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাস্তবায়ন কবে? আর শুধু ক্যামেরা স্থাপন করলেই 

কি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও বিচারহীনতার সমস্যার সমাধান হবে?
প্রযুক্তি আসছে, কিন্তু তার ব্যবহার, তথ্যের নিরাপত্তা, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালনা এসব প্রশ্নও এখন সামনে এসেছে। ঢাবির প্রক্টর চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন ডিজিটাল সিস্টেম ও এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে কাজ করছে প্রশাসন।

তিনি বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এআইভিত্তিক ক্যামেরার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে মানুষের প্রবেশ ও বের হওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ক্যাম্পাসে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের চেহারাও ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

প্রক্টরের ভাষ্য, এর আগে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে সিসিটিভি ফুটেজে জড়িত ব্যক্তির চেহারা স্পষ্টভাবে পাওয়া যেত না। ফলে অপরাধী শনাক্ত করতে জটিলতা তৈরি হতো। এ কারণেই নতুন প্রযুক্তির সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ হোসাইন বলেন, ক্যাম্পাসে ডিজিটাল সিস্টেমের এআই ক্যামেরা স্থাপন হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উদ্যোগটি নিতে এতসময় লাগল কেন- এ প্রশ্নও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আরিফ বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে জানানো হয়। অভিযোগ বা স্মারকলিপির মাধ্যমেও বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। প্রশাসন যখন আগে থেকেই এসব বিষয়ে অবগত, তখন সিদ্ধান্ত নিতে এত দেরি কেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তার ভাষায়, বিভিন্ন ঘটনায় বারবার তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও সেই তদন্তের ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আরিফের প্রশ্ন, নতুন এআই ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কবে বাস্তবায়ন হবে? আদৌ হবে কি না, নাকি এটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কমানোর জন্য দেওয়া আরেকটি আশ্বাস- সেটিও এখন দেখার বিষয়। এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব ব্যবস্থাপনার ওপর- এমনটাই মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থী লিনা।

তিনি বলেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, ক্যামেরা শনাক্ত করার পর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা থাকবে কি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এআই ক্যামেরা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে অনেক সময় বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। তবে তাসনিয়ার প্রশ্ন, প্রযুক্তিটি বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে নারী হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফুটবল বিশ্বকাপের স্ক্রিনিংয়ের সময়ও নারী হেনস্তার অভিযোগ এসেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে টিএসসিতে ছাত্র ইউনিয়নের এক নারী কর্মীকে হেনস্তার অভিযোগও পাওয়া গেছে। একাধিক জন বলেন, কোনো ঘটনা ঘটার পর প্রশাসনকে জানানো হলে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। কিন্তু অভিযোগগুলোর বিচার আদৌ হয় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আগে ক্যাম্পাসে যে ধরনের বিচারহীনতার অভিযোগ ছিল, পরবর্তীসময়েও তার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।

নতুন ল্যাম্পপোস্ট ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কথা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বলা হলেও ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা যখন সিসিটিভি ফুটেজ চান, তখন অনেক সময় ক্যামেরা নষ্ট বা ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না- এমন কথা শোনা যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত এআই ক্যামেরা ঢাবির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনবে, নাকি এটি কেবল আরেকটি প্রশাসনিক ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকবে- তার উত্তর মিলবে বাস্তবায়নের পরই।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝