দণ্ডিত ৭ আসামিকে খুঁজে পেলেই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: চিফ প্রসিকিউটর
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং পাঁচ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, বাজেয়াপ্ত সম্পদ জুলাই ফাউন্ডেশন বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের কথা রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রায় প্রকাশের পর আপিলের জন্য ৩০ দিনের সময় থাকায় এই সময়ের মধ্যে সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা ব্যবস্থাপনায় নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সময়সীমা শেষ হলে রায় বাস্তবায়নে সরকারের আইনগত বাধা থাকবে না।
পলাতক আসামিদের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাঁদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হলে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অধিকাংশ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এই রায় দিয়েছেন। আসামিদের ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ ও ব্যক্তিগত দায়ও প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আমিনুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় বৈঠকে কারফিউ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এবং ওবায়দুল কাদেরের ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশের পর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে।
পলাতক আসামিদের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসামিরা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও আদালতে হাজির হননি। তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক থাকায় আইন অনুযায়ী তাঁদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। ফলে তাঁদের বক্তব্যের আইনগত গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেও মন্তব্য করেন চিফ প্রসিকিউটর।
আ.দৈ/আরএস




















