মনে হচ্ছে আমি সবার টার্গেট’, ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও গায়ে নিরাপত্তা ভেস্ট পরানো থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। একই সঙ্গে তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে সুবিচার প্রত্যাশা করেন।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এ আবেদন জানান তিনি। জিয়াউল আহসান বলেন, সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণের সময় কোমর ও ঘাড়ে ব্যথা পেয়েছিলেন। কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনার সময় হাতকড়া, হেলমেট ও ভেস্ট পরানোয় তিনি অস্বস্তি বোধ করছেন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার নামে এতটা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষায়, মনে হচ্ছে তিনি সবার টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালের কাছে সুবিচার চান তিনি।
জিয়াউলের আবেদনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের মতামত জানতে চাইলে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আসামিকে কীভাবে আদালতে আনা হবে, তা জেল কর্তৃপক্ষের বিষয়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় জিয়াউল দাবি করেন, প্রিজনভ্যান থেকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানার দূরত্ব খুবই কম এবং সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিরাপত্তায় থাকেন। জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, দূরত্ব কম হলেও নিরাপত্তার ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
পরে হাতকড়া ও ভেস্ট থেকে অব্যাহতি চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করার পরামর্শ দেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। জিয়াউলের আইনজীবী নাজনীন নাহার জানান, এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হবে।
এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণও চলছে। বুধবার মামলার দশম সাক্ষী হিসেবে আব্বাস মল্লিক জবানবন্দি দেন এবং তাঁর ভাই আলকাছ মল্লিককে হত্যার জন্য জিয়াউলকে দায়ী করেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আ.দৈ/আরএস




















