
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানকে দীর্ঘদিন কারাবন্দি রাখা গেলেও তাঁর আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ক্রিকেটবিশ্বের সাবেক তারকা ও অধিনায়কদের প্রকাশ্য উদ্বেগের কারণে তাঁর কারাবাস এখন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে।
৩১ আগস্ট প্রকাশিত সাউথ এশিয়া মনিটরের এক বিশ্লেষণে ভারতীয় সাংবাদিক ও বিশ্লেষক রাজু কোর্তি বলেন, ইমরান খানকে ঘিরে তৈরি পরিস্থিতি পাকিস্তানের ক্ষমতাকাঠামোর জন্য একটি বড় প্যারাডক্স তৈরি করেছে। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে তিনি আরও বড় প্রতীকে পরিণত হতে পারেন।
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল আথারটন লর্ডসে ইমরানের দুই ছেলে সুলেইমান ও কাসিমের সাক্ষাৎকার নেন। সেখানে তাঁরা ইমরানের বিচ্ছিন্নতা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
এর বাইরে ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তালিকায় ভারতের সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, দিলীপ ভেংসরকার এবং অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেল ও ইয়ান চ্যাপেলের মতো ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব রয়েছেন।
১৯৯২ সালে ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে। সেই ক্রিকেটীয় উত্তরাধিকারই তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও বিশ্বজুড়ে একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। ফলে সাবেক ক্রিকেটারদের উদ্বেগকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে উপেক্ষা করা কঠিন।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইমরানের কারাবাসকে শুধু সরকারের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে পাকিস্তানের প্রকৃত ক্ষমতার কাঠামো পুরোপুরি বোঝা যাবে না। তাঁর রাজনৈতিক আন্দোলন ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনও এর সঙ্গে জড়িত।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সরাসরি পাকিস্তানের রাজনৈতিক বা সামরিক সিদ্ধান্ত বদলে দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু এই চাপ ইমরান ইস্যুকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধরে রাখছে এবং তাঁর কারাবাস ও চিকিৎসা নিয়ে আন্তর্জাতিক নজরদারি বাড়াচ্ছে।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়েও তৈরি হয়েছে তথ্যের ঘাটতি। পরিবারের অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হওয়ায় গুজব ও জল্পনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাধীন চিকিৎসা পরীক্ষা, নিয়মিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদন এবং পরিবার ও আইনজীবীদের পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ইমরান খানকে কারাগারে রেখে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও তাঁর জনপ্রিয়তা ও প্রতীকী শক্তি থামানো কঠিন হতে পারে। বরং দীর্ঘ কারাবাস, স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটবিশ্বের সমর্থন তাঁকে আরও শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত করতে পারে—এটাই পাকিস্তানের ক্ষমতাকাঠামোর বড় প্যারাডক্স।
আ.দৈ/আরএস




















