পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সহ ৭৫ দেশের ভিসায় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল মার্কিন আদালতে
ডেস্ক রিপোর্ট:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ব্রাজিলসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া স্থগিতের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে ওই নীতিমালা বাতিল করেছেন। বিচারিক আদালতের রায়ে পরিস্কার বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি ভাবে অতিরিক্ত ক্ষমতার ব্যবহার করেছেন।
গত জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এই সিদ্ধান্তের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও বাংলাদেশ; ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়েসহ লাতিন আমেরিকার দেশগুলো; বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো বলকান অঞ্চলের দেশগুলো; এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহু দেশের ভিসা আবেদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক রায়ে জানান, পররাষ্ট্র দপ্তরের জানুয়ারি মাসে ঘোষিত এই নীতি ছিল ‘স্পষ্টত বেআইনি’। এটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থি। কারণ সেই আইন অনুযায়ী কনস্যুলার কর্মকর্তাদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রমের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি কর্তৃত্ব সরিয়ে নিয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।
তিনি রায়ে উল্লেখ করেন, যে নীতিতে কেবল আবেদনকারীর জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসী ভিসা দেওয়া ক্যাটাগরি অনুযায়ী পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা এই সংবিধিবদ্ধ আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সেসময় দাবি করেছিল, এসব দেশের অভিবাসন প্রত্যাশীদের ‘পাবলিক চার্জ’ হওয়ার অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
তবে আদালতের এই রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ডেমোক্রেটিক সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে নিযুক্ত বিচারক ভার্গাস এই রায় দেন।
ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার নামের দুটি অভিবাসী অধিকার রক্ষা সংস্থা এবং এসব নির্ধারিত দেশের নাগরিক ও স্বজনদের জন্য ভিসার আবেদনকারী মার্কিন নাগরিকদের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় এলো। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির কথা বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই অভিবাসন নীতিতে বেশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে আসছেন।
গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন ‘স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, দপ্তর তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে দাঁড়াবে এবং মার্কিন জনগণের উদারতার অপব্যবহার করবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্ত গত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছিল।
অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলোর মতে, সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ বাকস্বাধীনতা ও সুষ্ঠু আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য একটি অনিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বর্ণ বৈষম্যের আশঙ্কা।
আ. দৈ./একে




















