ইসরায়েল ছাড়ছেন ধনী-উচ্চশিক্ষিতরা, কাঠগড়ায় নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশ ছাড়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন বছরে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছেন। তাদের বড় একটি অংশ উচ্চশিক্ষিত ও আর্থিকভাবে সচ্ছল শ্রেণির বলে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয় চলতি মাসে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের বরাত দিয়ে জানায়, ২০২৩ সালে প্রায় ৮৬ হাজার ৫০০, ২০২৪ সালে ৯১ হাজার ৫০০ এবং ২০২৫ সালেও প্রায় একই সংখ্যক নাগরিক ইসরায়েল ছেড়েছেন। ফলে তিন বছরে দেশত্যাগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজারে।
‘দেশত্যাগের সুনামি’ নিয়ে সতর্কতা
ক্রমবর্ধমান এই প্রবণতাকে ‘দেশত্যাগের সুনামি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইসরায়েলি পার্লামেন্টের অভিবাসনবিষয়ক কমিটির প্রধান ও বিরোধী দলের নেতা গিলাদ কারিভ। তার অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক নাগরিক দেশ ছেড়ে চলে গেলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার মতে, দেশত্যাগের এই প্রবণতা ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
ধনী ও উচ্চশিক্ষিতদের দেশ ছাড়ার কারণ কী?
দেশত্যাগের পেছনের কারণ খুঁজতে ইসরায়েলি কর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত একটি গবেষণাতেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় উঠে এসেছে। চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত গবেষণাটি বিভিন্ন প্রতিবেদন ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। গবেষণার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েল সরকার যত বেশি ডানপন্থী নীতির দিকে ঝুঁকেছে, উচ্চশিক্ষিত ও ধনী নাগরিকদের একটি অংশের মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতাও তত বেড়েছে। দেশত্যাগী অনেক ইসরায়েলি নিজেদের উদারপন্থী হিসেবে পরিচয় দেন। তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার ইসরায়েলি সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আগের তুলনায় বেশি কট্টর করে তুলছে। বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে গবেষণা ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
চলতি বছরের শেষ দিকে ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে দেশত্যাগের এই পরিসংখ্যান নেতানিয়াহু সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং দেশের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও অনেক নাগরিককে বিদেশে নতুন জীবন বেছে নিতে উৎসাহিত করছে। ফলে নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে অভিবাসন ও দেশত্যাগের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আ.দৈ/এসআর




















