রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের পর ত্রাণের অপেক্ষায় হাজারো মানুষ
ডেস্ক রিপোর্ট:
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৩ পিএম   (ভিজিট : ৩৭)
X

৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের বাসিন্দারা ত্রাণের অপেক্ষায় রয়েছেন। আজ রোববার (১৬ আগস্ট) হাজার হাজার মানুষ জরুরি সহায়তার অপেক্ষায় আছেন। গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে।  এই ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ৪৮ জন নিহত এবং অন্তত ১০১ জন আহত হয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ভূমিকম্পে বহু সরকারি ও জনসেবা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৩৮টি সরকারি কার্যালয় রয়েছে। এছাড়াও  শত শত বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি’র মুখপাত্র বার্তন সুয়ার পেলিতা পানজাইতান জানান, ভূমিকম্পের পর প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যান। ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টায় ৩৪১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর একটি সড়কও এখনো ব্যবহারযোগ্য হয়নি।

ফ্লোরেসের উত্তর উপকূলের নাঙ্গাহালে গ্রামের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী উমরি আজ সকালে এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের খাবার, পানি, ওষুধ এবং শিশুদের জন্য ডায়াপার দরকার।’ভূমিকম্পের পর বাড়িতে ফিরতে ভয় পেয়ে তিনি অন্যদের সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করছেন।

একই পাহাড়ে রাত কাটানো ৫৫ বছর বয়সী নুরহিদায়াতি বলেন, ‘আমি এখনো খুব আতঙ্কিত। গতকালের ভূমিকম্পের কথা মনে পড়লে বুক ধড়ফড় করছে। আমরা গতকাল শুধু দৌড়ে এখানে উঠে এসেছিলাম। আমি এখনো খুব ভয় পাচ্ছি। ১৯৯২ সালের ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনো আমাকে তাড়া করে। তাই বাড়িতে ফিরতে সাহস করছি না।’

১৯৯২ সালেও ফ্লোরেসে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারায়।নুরহিদায়াতি বলেন, ‘সরকার দ্রুত আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেবে- এটাই আশা করছি।’
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রাণহানির পাশাপাশি সমুদ্রের কাছে সংঘটিত এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।’
তিনি জানান, দুর্গতদের জরুরি তাঁবু, খাবার, ওষুধ, কম্বল, খাট, মাদুর, বিশুদ্ধ পানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর প্রয়োজন। গতকাল শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা আরও একজন বেড়েছে।

স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা ফাথুর রহমান রোববার এএফপিকে জানান, এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন,এমন খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা শুধু উদ্ধার ও অনুসন্ধানের কাজে মনোযোগ দিচ্ছি এবং পুরো এলাকা তল্লাশি করছি।’

ভূতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ফ্লোরেসের উত্তর উপকূলের অদূরে সমুদ্রের নিচে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উঁচু ভবন খুব কম থাকায় বড় ধরনের ভবনধসের ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
বিএনপিবির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৯১৪টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আরও শত শত বাড়ি কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আ. দৈ./একে


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝