রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংঘাতের খবর প্রচার করলে টিভি বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন আরাফাত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম   (ভিজিট : ৫৬)
X

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কোনো টেলিভিশন চ্যানেল সংঘাত বা মারামারির ছবি-ভিডিও প্রচার করলে সেটিকে ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ ঘোষণা করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। এ সময় তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাঁকে কোনো সংঘাতের খবর প্রচার না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ওবায়দুল কাদের ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের মুঠোফোনে কথোপকথনের একটি অডিও সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বাজিয়ে শোনানো হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের চতুর্থ দিনে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন অডিওটি উপস্থাপন করেন।

অডিওতে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, যারা সরকারের কথা শুনছে না, তাদের টেলিভিশন চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জবাবে আরাফাত বলেন, আগের দিনও কয়েকটি চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং যেসব চ্যানেল নির্দেশনা মানবে না, সেগুলোও সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এরপর ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে যেন কোনো সংঘাতের খবর না দেয়।’ জবাবে আরাফাত বলেন, কোনো চ্যানেল সংঘাত বা মারামারির ভিডিও ফুটেজ কিংবা ছবি প্রচার করলে তাদের ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’ বা ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ ঘোষণা করে সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।

আরাফাত আরও বলেন, টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যাতে সংঘাতের ছবি প্রচার না করে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো চ্যানেল এমন ছবি প্রচার করলে তাঁর অনুমতির অপেক্ষা না করে সেটি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে অডিওতে তিনি জানান।

কথোপকথনের একপর্যায়ে ওবায়দুল কাদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে আরাফাত কী বুঝেছেন, তা জানতে চান। আরাফাত জানান, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ব্রিফ করার জন্য যাচ্ছেন। তাঁর নিজের একটি মূল্যায়নও রয়েছে, যা তিনি কাদেরকে জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।

পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আরাফাত বলেন, কোটা আন্দোলনকারীদের দুটি ভাগে বিভক্ত হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে একটি ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একদিকে রয়েছে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা, যাদের সঙ্গে সরকার আলোচনা করছে; অন্যদিকে রয়েছে ‘তৃতীয় পক্ষ’, যাদের তিনি জামায়াত-বিএনপির ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরাফাত বলেন, কারফিউয়ের সিদ্ধান্তটি পোড়াও ও সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এবং কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘সফট সলিউশন’-এর পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সময় ওবায়দুল কাদের জানতে চান, সেদিন আলোচনা হবে কি না। আরাফাত তাঁকে গণভবনে আসার বিষয়ে জানতে চান। কথোপকথনে কাদের জানান, আগের রাত ২টা পর্যন্ত তাঁরা গণভবনে ছিলেন। পরে তিনি প্রয়োজন হলে তাঁকে ফোন দিতে আরাফাতকে বলেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ।

মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝