বনানীতে জাল নোটে সোনা কেনাকালে আটক রুবেল ২ দিনের রিমান্ডে
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বনানীতে ৫৭ লাখ টাকার জাল নোটে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ক্রয়কালে হাতে নাতে গ্রেফতার মো. রুবেল আহম্মেদ ফকিরকে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
গতকাল ৭ আগস্ট বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই জুম্মান খান রুবেলকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড শুনানির সময় আসামি রুবেল আহম্মেদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট বিকেলে রুবেল আহম্মেদ ও তার সহযোগী আবদুল্লাহ আল কাফি ক্রেতা সেজে বনানী সুপার মার্কেটের মনিমালা জুয়েলার্সে প্রবেশ করেন। ভাগনির বিয়ের জন্য স্বর্ণালংকার কেনার কথা বলে তারা বিভিন্ন ডিজাইনের গয়না দেখতে থাকেন।
একপর্যায়ে তারা প্রায় ২০ থেকে ২১ ভরি স্বর্ণালংকার পছন্দ করে সেগুলো প্যাকেট করার জন্য বলেন। গয়নার মূল্য বেশি হওয়ায় দোকানের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বিষয়টি মালিককে জানান। মালিক দোকানে আসতে দেরি করায় ক্রেতাদের বিল পরিশোধ করতে বলা হয়। এ সময় রুবেল তার সঙ্গে থাকা প্রায় ১৬ ইঞ্চি লম্বা একটি ট্রলি ব্যাগ খুলে এক হাজার টাকা মূল্যমানের নোটের বান্ডিল বের করে কাচের টেবিলের ওপর রাখেন। নোটগুলো পরীক্ষা করতে গিয়ে দোকানের কর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা নিশ্চিত হন, টাকাগুলো জাল।
বিষয়টি বুঝতে পেরে রুবেল ও তার সহযোগী ট্রলি ব্যাগ ও জাল নোট ফেলে দোকান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন আশপাশের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা ধাওয়া দিয়ে রুবেলকে ধরে ফেলেন। এ সময় কয়েকজন তাকে মারধরও করেন। তবে আবদুল্লাহ আল কাফি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
খবর পেয়ে রাত পৌনে ৮টার দিকে বনানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুবেলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরে তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৫৮টি বান্ডিলে মোট ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকার জাল নোট এবং একটি ট্রলি ব্যাগ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জুয়েলার্সের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম শুক্রবার রুবেল আহম্মেদ ও আবদুল্লাহ আল কাফির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বনানী থানায় মামলা করেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল জাল নোটের উৎস কিংবা এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য দেননি। জাল নোটের উৎস, সরবরাহকারী ও চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত এবং পলাতক সহযোগী আবদুল্লাহ আল কাফিকে গ্রেফতারের জন্য তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে আরও দাবি করেন, রুবেলকে প্রাথমিকভাবে একটি সক্রিয় জাল নোট চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর মুগদা, শাহজাহানপুর, পল্টন, গুলশান ও উত্তরা-পশ্চিম থানাসহ নেত্রকোনা, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন থানায় জাল নোট তৈরি, প্রতারণা, মানি লন্ডারিং ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৬টি মামলা রয়েছে। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে রুবেল আহম্মেদ ফকিরের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আ. দৈ./কাশেম




















