আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের ‘জোরপূর্বক শ্রম শুল্ক’ আরোপ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা নতুন ‘জোরপূর্বক শ্রম শুল্ক’ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শুল্ক আরোপের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্কের ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার দায়ের করা মামলায় আদালতের কাছে নতুন শুল্ক কার্যকর স্থগিত, সেটিকে বেআইনি ঘোষণা এবং ইতোমধ্যে আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। আবেদনকারীদের দাবি, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যেভাবে বৈশ্বিকভাবে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তার সঙ্গে আইনটির উদ্দেশ্যের কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক নেই।
গত ২৪ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন ‘জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য’ আমদানির অভিযোগে ৬০টি দেশ ও অঞ্চলের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। ঘোষণার দিন থেকেই এ শুল্ক কার্যকর হয়। ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও ফিলিপাইনের জন্য শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
এর আগে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ওপর ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপ করেছিলেন। তবে আদালতের এক রায়ে সেই পদক্ষেপ বাতিল হওয়ার পর নতুন কৌশল হিসেবে জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুকে সামনে এনে এই শুল্ক আরোপ করা হয়।
এদিকে মামলার জবাবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সরকারের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ আইনসম্মত। মুখপাত্র কুশ দেশাই এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে এমন নীতি ও চর্চা মোকাবিলায় সরকার তার বৈধ ক্ষমতা প্রয়োগ করছে।
মামলায় অংশ নেওয়া ২৫টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৩টির গভর্নর ডেমোক্র্যাট দলের এবং দুটি রিপাবলিকান দলের। আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার তদন্ত ছিল পূর্বনির্ধারিত ও অজুহাতনির্ভর। তদন্ত শুরুর আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, তারা জোরপূর্বক শ্রমের সম্পূর্ণ বিরোধী এবং বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার পক্ষে। তবে এই ইস্যুকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে প্রশাসন বেআইনি শুল্ক নীতি কার্যকর রাখতে পারে না বলেও তারা আদালতে উল্লেখ করেছে।
আ.দৈ/আরএস




















