ঢাকা সিএমএম আদালতের বিচারকের সই-সিল জালিয়াতি, আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের এক বিচারকের স্বাক্ষর ও সরকারি সিলমোহর জাল করে ভুয়া হলফনামা তৈরির অভিযোগে আইনজীবীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। আদালতের নথি যাচাইয়ের সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর আদালতের নির্দেশে এ মামলা করা হয়।
আজ সোমবার (২০ জুলাই) সকালে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন,গতকাল রোববার সন্ধ্যায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলামকে।
জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলার বাদী হয়েছেন ঢাকার সিএমএম আদালতের নেজারত বিভাগের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর মো. খালিদ হোসেন। মামলায় মো. নয়ন, মোসা. রিমা এবং আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম (তরু) ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই ঢাকার ১১ নম্বর আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মৌখিক নির্দেশে মো. নয়ন ও ফাহিমা ইসলাম রিয়া নামে এক দম্পতির বিয়ের হলফনামা আদালতের সংরক্ষিত রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, উপস্থাপিত হলফনামাটি আদালতের মূল নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, হলফনামায় উল্লেখ থাকা ২৪ ফেব্রুয়ারি ৩০ নম্বর স্মারক অনুযায়ী আদালতের রেজিস্টারে প্রকৃতপক্ষে অন্য একজন ব্যক্তি- মো. জাফরুল ইসলামের নামে একটি হলফনামা নিবন্ধিত রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট নথিটি জাল বলে নিশ্চিত হয় আদালত।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ঢাকার ১১ নম্বর আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সরকারি সিলমোহর জাল করে ওই হলফনামা প্রস্তুত করা হয়। পরে সেটি ব্যবহার করে বরগুনার বামনা আমলি আদালতে একটি নালিশি (সিআর) মামলা দায়েরের চেষ্টা করা হয়। তবে নথি যাচাই শেষে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় অভিযোগটি খারিজ করে দেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আদালতের নাম, বিচারকের স্বাক্ষর ও সরকারি সিল জাল করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে নথি তৈরি ও ব্যবহারের মাধ্যমে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে জালিয়াতির অপরাধ করেছেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. খালিদ হোসেন বলেন, আদালতের নথি যাচাইয়ের সময় হলফনামাটির অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে রেজিস্টার মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, বিচারকের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে ভুয়া হলফনামা তৈরি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আ.দৈ./কাশেম




















