রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা, হাজতখানা ও আসামিদের ওপর হামলার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৫ পিএম   (ভিজিট : ৩৪)
X

ভিসা না দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৯১ শিক্ষার্থীর আট কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলার মূল হোতা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ওরফে মো. মতিউর রহমানসহ চার আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুনানি শেষে পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিদের ওপর হামলাসহ হাজতখানার ওপর চড়াও হোন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে আসামিদের রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন, রাবেয়া খাতুন তানিয়া, সাইদুর রহমান ও মো. তানজির ইসলাম। তাদের মধ্যে তানজিরের ৪ দিন এবং অপর তিন আসামির ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

এদিন দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. বিল্লাল ভূইয়া আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাদের আদালতে তোলা হয়। এসময় আদালত চত্বরে থাকা শতাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্দেশ্যে গালাগাল শুরু করেন। আদালতের বারান্দায় নিলে কয়েকজন হামলার চেষ্টা করেন। আসামিদের উপস্থিতিতে শুরু হওয়া শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এসময় আদালতে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা আলহামদুলিল্লাহ বলে উচ্ছ্বাস করেন। পরে পুলিশ প্রহরায় ফের হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে আসামিদের সিঁড়ি দিয়ে নিচে আনা হয়৷ হাজতখানায় নেওয়ার আগ মুহূর্তে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা আসামিদের ওপর হামলা চালান। পুলিশ সদস্যদের ওপর দিয়ে কিল-ঘুসি মারতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

এসময় তোড়জোড় করে পুলিশ সদস্যরা আসামিদের হাজতখানার পকেট গেট দিয়ে ভেতরে নেয়া হয়। পরে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা হাজতখানার প্রধান গেট ভেঙে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকে গেটে লাথি মেরে ঢুকার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। আদালতের নিচতলা দিয়ে হাজতখানার পকেট গেটেও লাথি ও ধাক্কা দিয়ে আসামিদের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে বলেন।

কিছুক্ষণ পর বাদীপক্ষের আইনজীবী রুহুল আমিন মোল্লাসহ কয়েকজন তাদের শান্ত করেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় তারা অবস্থান করে চলে যান। এর আগে বুধবারের (১৫ জুলাই) ন্যায় বৃহস্পতিবার সকালেও সিএমএম কোর্ট প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, আসামি ও হাজতখানায় হামলার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আদালতে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল কালবেলাকে বলেন, ‘আসামিদের ওপর চড়াও হতে গেলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা ঠেকিয়ে দেন। হাজতখানার সামনে সবসময় মানুষ থাকে। আজ বেশি ছিল। তবে, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।’

মামলার বিবরণে বলা হয়, ভিসা গাইড কোম্পানি স্টুডেন্ট ভিসার মাধ্যমে চার মাসের মধ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে জাস্ট থট এডুকেশন কনসালটেন্ট কোম্পানি বিভিন্ন সময়ে ৯১ শিক্ষার্থীর কাছে থেকে আট কোটি ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। তাদের কাছে থেকে অর্থ গ্রহণের পর নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও বিদেশে পাঠাননি। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানে গেলে তারা স্টুডেন্ট ও ফ্যামিলি ভিসা প্রসেসিংয়ের আশ্বাস দেন।

পরে বিদেশে না পাঠিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় ৮ জুলাই ভুক্তভোগীদের পক্ষে আল আমিন বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝