অ্যাকাউন্টে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার লেনদেন
গাইবান্ধার হরিদাস মানিলন্ডারিং মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে
নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধার ষড়যন্ত্রকারীদের অন্যতম উগ্রু হিন্দু যুবক ‘হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে ৪ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং অপরাধের মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থের লেনদেনের সুনিদিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ওইসব অর্থের উৎস ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে পুলিশের আবেদনের পর এ আদেশ দেওয়া হয়।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে. এম. রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে সেই হরিদাস হয়ে যান তৌহিদ ইসলাম মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১২ জুলাই রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলাটি করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে হরিদাস পালের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তার নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, এসব অর্থের উৎস, কারা অর্থ জমা দিয়েছেন এবং সম্ভাব্য অর্থপাচার চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তাকে জামিন দেওয়া হলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথাও আদালতকে জানানো হয়।
গাইবান্ধার হরিদাসের অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক ৯.৩৫ কোটি টাকার লেনদেন সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আদালত সাত দিনের পরিবর্তে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
এদিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনা আসা হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনকভাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
সোমবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসের বৈধ কোনো আয়-উৎসের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা এবং প্রায় একই পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের তথ্য মিলেছে, যা সন্দেহজনক বলে মনে করছে সিআইডি।
আ. দৈ./কাশেম




















