স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি খাদ্য আমদানি ও উৎপাদন করায় ডিএসসিসির ৪ মামলা দায়ের
ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য সামগ্রি বাজারজাত, ৪ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীতে ভেজাল ও জনজন স্বাস্থ্যের মারাত্মক হুমকি খাদ্য সামগ্রি আমদানি, উৎপাদন এবং বাজারজাতের সুনিদিষ্ট অভিযোগে ৪টি প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে স্থাপিত বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক (ঢাকা স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মাহমুদুল হক ওই ৪টি পৃথক মামলা আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
আজ বুধবার ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, অভিযুক্ত ৪টি প্রতিষ্ঠান ও খাদ্যপণ্য সমূহের মধ্যে রয়েছে; ১, বিদেশি প্রতিষ্ঠান ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল ফুড লি.-এর উৎপাদিত ‘ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’। ২, ‘ইস্ট কেক পুর পিঠা (ইনট্যাক্ট)’।৩ , বিদেশি প্রতিষ্ঠান আরবোটিং ফুড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত ‘আর বোটিং ফুড স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’। ৪, বনশ্রীর ‘কাচ্চি সুলতান’ রেস্টুরেন্টের বাজারজাতকৃত ‘বোরহানী’।
পৃথক ৪টি মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করণের অংশ হিসেবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মানহীন ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে। পরে এসব খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করণের অপরাধে ওই ৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে ডিএসসিসি। বিচারিক আদালত মামলাগুলো আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত ০২ জুলাই ডিএসসিসির ‘জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগারের’ ল্যাব টেস্ট রিপোর্টে কয়েকটি খাদ্য সামগ্রি নির্ধারিত মানে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়। পরীক্ষায় ভেজাল, জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রমাণীত হয়েছে। যারফলে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৬, ২৭, ৩৯ ও ৪১ ধারা অনুযায়ী ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত-২-এই ৪টি মামলা দায়ের করা হয়।
আরো জানানো হয়, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্ট খাদ্যপণ্যে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার তদারকি, খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে এই কঠোর আইনি ব্যবস্থা চলমান থাকবে।
আ. দৈ. /কাশেম




















