হত্যাচেষ্টা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের শুনানি ৬ জুলাই
নিজেস্ব প্রতিবেদক

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টার একটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন করে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। আবেদনটি শুনানির জন্য আগামী ৬ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশনের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন গলমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে বনানী থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম এ আবেদন করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মহাখালীর সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার একটি মিছিল শাহবাগের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ ও হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উজ্জ্বল মিয়া গত বছরের ২৫ নভেম্বর বনানী থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তে সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণে ওই ঘটনার সঙ্গে এ বি এম খায়রুল হকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। সেই ভিত্তিতেই তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
গত ২৩ মে সাতটি পৃথক মামলায় জামিন লাভের পর জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে যাত্রাবাড়ীতে খোবাইব নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে ৩০ জুন হাইকোর্ট ওই মামলায় তাকে জামিন দেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত সেই জামিন বহাল রাখেন।
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) খায়রুল হককে গ্রেফতার করে। পরে চলতি বছরের ৩০ মার্চ তিনি পাঁচটি মামলায় জামিন পান। তবে জামিনের পরও যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
এদিকে, বিভিন্ন মামলায় ধারাবাহিকভাবে গ্রেফতার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিটের শুনানি শেষে গত ১৭ মে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন, যেসব মামলায় এ বি এম খায়রুল হককে আসামি করা হয়নি, সেসব মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো বা হয়রানি করা যাবে না।
আ. দৈ./কাশেম




















