রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টেলিফোন বোর্ডের সাবেক ৩ কর্মকর্তাকে ৪৪ বছরের সাজা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:৫২ পিএম  আপডেট: ২২.০৬.২০২৬ ৬:৫৬ পিএম  (ভিজিট : ৫৮)
X

২৭ বছর আগে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর করা মামলায় বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে ৪৪ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিতরা হলেন- বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) অফিসের সাবেক উচ্চমান সহকারী কাম ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন, একই কার্যালয়ের সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) মো. কামরুল আলম এবং সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) সাদিকুর রহমান খান।

দুদকের পিপি মো. রেজাউল করিম রনি জানিয়েছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে পারস্পরিক যোগসাজসে জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অতিরিক্তি ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা তুলে পরস্পর যোগসাজসে আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। 

তিনি বলেন, পৃথক ছয়টি ধারায় তিনজন আসামির প্রত্যেককে এই সাজা দেওয়া হয়। রায়ে দণ্ডবিধির পাঁচটি ধারায় ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুটি ধারায় প্রত্যেককে ১০ বছর করে, দুটি ধারায় ৭ বছর করে এবং অন্য দুটি ধারায় ৫ বছর করে মোট ৪৪ বছর সাজা দেয় আদালত। এ ছাড়া ছয় ধারায় ভিন্ন ভিন্ন অংকে প্রত্যেককে মোট ১ কোটি টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে প্রত্যেককে মোট আরও তিন বছর ৬ মাসের সাজাও দেওয়া হয়।

রেজাউল করিম রনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে তিনজনই পলাতক। বিভিন্ন ধারায় দেওয়া সাজা একসাথে কার্যকর হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।’ 

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে আসামি মোহাম্মদ হোসেন যে পরিমাণ টাকা তোলার কথা ছিল তার চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ২৪টি চেকের মাধ্যমে তুলে নেন। এই টাকা ক্যাশবুকে প্রদর্শন করা হয়নি এবং সরকারি কোষাগারেও জমা পড়েনি। ওই সময়ে অতিরিক্ত টাকা তুলতে ক্ষমতাপত্র প্রদানের মাধ্যমে তাকে সহায়তা করেন তিন বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামরুল আলম, মো. সাদিকুর রহমান খান ও স্বপন কুমার মিত্র। এই চারজনের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সেসময়ে চট্টগ্রামের জেলা দুর্নীতি দমন অফিসার মো. নুর আহাম্মদ বাদী হয়ে ১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন।

দণ্ডবিধির ৭টি ধারায় এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি করা হয়েছিল। এই মামলার তদন্ত চলাকালে দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত হয় এবং এক আসামি স্বপন কুমার মিত্র মারা যান। পরে ২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর তাকে অব্যাহতি দিয়ে তিন আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়।

প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে জমা দেওয়া দুদকের অভিযোগপত্রে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। ২০১৪ সালের ৮ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার আদালত এই রায় দেন। 

আ.দৈ/আরএস





Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝