বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
ই-পেপার

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ভারতে ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন, ইন্টারনেট বন্ধ করে ৪৪ বছরের পুরোনো নূরানী মসজিদ ভাঙা শুরু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৬:০৩ পিএম   (ভিজিট : ৬৪)
X

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুরে তীব্র উত্তেজনা ও ভারী পুলিশ মোতায়েনের মধ্যে ৪৪ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক মসজিদ ভাঙার কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।  

গত রবিবার (০৭ জুন) জয়পুরের মালবীয় নগর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক 'নূরানী মসজিদ' উচ্ছেদে এই অভিযান চালানো হয়। এলাকাটিকে কার্যত সামরিক ছাউনিতে পরিণত করে প্রায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং গুজব ছড়ানো রোধের অজুহাতে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮১ সালে নির্মিত এই প্রাচীন নূরানী মসজিদটি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই অঞ্চলের মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সেখানে প্রতিদিন নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন শতশত মুসল্লি। হঠাৎ করেই একটি রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অজুহাতে জয়পুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (জেডিএ) মসজিদটিকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। মসজিদটি ছাড়াও একটি মাজার, দুটি ছোট মন্দির এবং একটি সৎসঙ্গ ভবনও এই উচ্ছেদ অভিযানের আওতায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে প্রশাসনের এমন আকস্মিক ও একতরফা অ্যাকশনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মসজিদ কমিটি। কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, গত শুক্রবার রাতে তাদের হাতে উচ্ছেদের নোটিশ ধরানো হয় এবং এর জবাব দেওয়ার জন্য ন্যূনতম সময়ও দেওয়া হয়নি। আইনি লড়াই বা কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তড়িঘড়ি করে রবিবার সকালে বুলডোজার নিয়ে হাজির হয় প্রশাসন।

কমিটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, এই জমিটি কোনো অবৈধ সম্পত্তি নয়, বরং জয়পুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (জেডিএ) অনুমোদিত একটি আবাসন সমিতি (হাউজিং সোসাইটি) থেকে সম্পূর্ণ বৈধভাবে কেনা হয়েছিল। দীর্ঘ ৪৪ বছর পর হঠাৎ কোন উদ্দেশ্যে এটিকে অবৈধ তকমা দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় মুসলিমরা।

অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুরো মালবীয় নগর অবরুদ্ধ করে ফেলে পুলিশ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং স্থানীয়দের প্রতিরোধ ভেঙে দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ হাজারেরও বেশি সশস্ত্র পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়। অভিযানের আগে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করতে পুলিশের পক্ষ থেকে 'ফ্ল্যাগ মার্চ' বা মহড়া দেওয়া হয়। একই সাথে ডিজিটাল মাধ্যমে যেন কোনো ক্ষোভ বা প্রতিবাদের ছবি ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বছরের পর বছর ধরে চলা যানজট নিরসনে রাস্তা প্রশস্ত করা জরুরি ছিল এবং এর আগে মে মাসেও ওই এলাকার ১৩৪টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। নূরানী মসজিদের পরিবর্তে 'খো নাগোরিয়ান' এলাকায় বিকল্প জমির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও প্রশাসনের দাবি।

তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের মতে, ঐতিহাসিক ধর্মীয় উপাসনালয় এভাবে জোরপূর্বক গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বিশাল পুলিশি পাহারায় উচ্ছেদ কাজ চলছে এবং পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

● About Us    ● Advertisement    ● Terms & Conditions    ● Privacy Policy    ● Copyright Policy    ● Circulation    ● Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝