১ বছর পর মুক্ত আইভী, লড়বেন আগামী সিটি নির্বাচনে
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
গত বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টা ৮ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি বের হন। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে তাঁর নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটিরে’ পৌঁছালে কর্মী-সমর্থকরা তাঁকে স্বাগত জানান।
মুক্তির পর আইভী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন—আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি তিনি আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আবারও মেয়র পদে লড়াই করবেন।
২০২৫ সালের ৯ মে নারায়ণগঞ্জের নিজ বাসা থেকে ডা. আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মূলত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ফতুল্লা ও সদর মডেল থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। সব মিলিয়ে বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা রয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইভীর বিরুদ্ধে থাকা এই ১২টি মামলায় উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। আইনি সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করার পরই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। আদালত জামিন মঞ্জুর করায় আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে ডা. আইভীর আর কোনো আইনি বাধা নেই।
উল্লেখ্য, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন। এরপর তিনি টানা তিন মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব পালন করে নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন করেন।
বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছেন। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলেও আইভী মানসিকভাবে বেশ শক্ত আছেন এবং নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের সমর্থনকেই নিজের মূল শক্তি হিসেবে দেখছেন।
আ.দৈ/আরএস/এ এইচ এইচ




















